ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

একমি পেস্টিসাইডসের পতন: আইপিওর রঙিন স্বপ্ন এখন বিনিয়োগকারীদের দুঃস্বপ্ন

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৬:১৫:৪০

একমি পেস্টিসাইডসের পতন: আইপিওর রঙিন স্বপ্ন এখন বিনিয়োগকারীদের দুঃস্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসায়িক পরিধি বাড়ানো এবং মুনাফা বৃদ্ধির প্রলোভন দেখিয়ে শেয়ারবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল একমি পেস্টিসাইডস। কিন্তু তালিকাভুক্তির মাত্র দুই বছরের মাথায় কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। শেয়ারবাজারে আসার আগে অতিরঞ্জিত আর্থিক হিসাব এবং বিতর্কিত নিরীক্ষকের মাধ্যমে ডিভিডেন্ডের ভুয়া চিত্র দেখানোর অভিযোগ এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তালিকাভুক্তির আগে নিয়মিত মুনাফা দেখানো কোম্পানিটি এখন বড় অঙ্কের লোকসানের ঘানি টানছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই পরিস্থিতির জন্য বিগত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তার মতে, অধ্যাপক খায়রুল হোসেন ও শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সময় অনেক দুর্বল ও ভুয়া কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে এসব কৃত্রিম আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানানো হলেও তৎকালীন কমিশন তাতে কর্ণপাত করেনি, যার খেসারত এখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হচ্ছে।

একমি পেস্টিসাইডসের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষায় যুক্ত ছিল বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং। এই নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানের পার্টনার রমেন্দ্র নাথ বসাকের বিরুদ্ধে একই সময়ে একটি কোম্পানির দুই ধরনের আর্থিক প্রতিবেদনকে সঠিক বলে প্রত্যয়ন দেওয়ার নজিরবিহীন অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়মের কারণে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) তাকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধও করেছিল। এমন একজন বিতর্কিত নিরীক্ষকের মাধ্যমে তৈরি করা হিসাব নিয়েই শেয়ারবাজারে আসে একমি পেস্টিসাইডস।

তালিকাভুক্তির আগে প্রসপেক্টাসে দেখানো হয়েছিল যে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কোম্পানির ৯৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিক্রি বেড়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে নিট মুনাফাও ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেখানো হয়। কিন্তু শেয়ারবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের পরই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু করে। ২০২১-২২ অর্থবছরে বিক্রি সামান্য বাড়লেও মুনাফা কমে ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় নেমে আসে।

পরবর্তী ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির ব্যবসায় বড় ধস নামে। ১২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় পণ্য বিক্রি নেমে আসায় নিট মুনাফা ৩১ শতাংশ কমে ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। পতনের এই ধারা অব্যাহত থাকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও, যখন কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা লোকসান গুনে। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে, যা শেয়ারপ্রতি ১.১৪ টাকা। চলতি অর্থবছরেও এই লোকসানি ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এসব অনিয়ম ও লোকসানের বিষয়ে একমি পেস্টিসাইডসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্লেখ্য, ১৩৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিতে সাধারণ ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮.২০ শতাংশ। রবিবার কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ ২০.২০ টাকা দরে লেনদেন হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত