ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি: অডিটরদের ‘লাল সংকেত’

২০২৬ এপ্রিল ০৫ ২০:২৪:১৫

অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি: অডিটরদের ‘লাল সংকেত’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যতে টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অডিটর বা নিরীক্ষকদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ৩৭টি কোম্পানির ক্ষেত্রে ‘গোয়িং কনসার্ন’ (Going Concern) বা অস্তিত্ব রক্ষার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যা বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, এই ৩৭টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত মোট প্রতিষ্ঠানের ১০ শতাংশেরও বেশি। মূলত ধারাবাহিক লোকসান, ঋণের পাহাড়, তীব্র তারল্য সংকট কিংবা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির কারণেই অডিটররা এই ‘লাল সংকেত’ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টি বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের বারাকা পাওয়ার ও ডরিন পাওয়ার এবং খাদ্য খাতের বিডি থাই ফুডের মতো পরিচিত নাম রয়েছে। এছাড়া টেক্সটাইল, ওষুধ ও আর্থিক খাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানও এই সংকটের মুখে। বিশেষ করে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়। প্রাইম ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণ ও নেতিবাচক আয়ের কারণে দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে কয়েকটি কোম্পানির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। যেমন—সাফকো স্পিনিংস ১৪০ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণে জর্জরিত এবং তাদের কার্যক্রম প্রায় স্থবির। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের মোট লোকসান ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যুৎ খাতের বারাকা পাওয়ারের একটি প্রধান কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং তা নবায়ন না হওয়ায় কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে ডরিন পাওয়ার তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ডিভিডেন্ডের ওপর ভর করে টিকে থাকার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এই ৩৭টি কোম্পানিই নয়, আরও ২৩টি কোম্পানি দীর্ঘ দিন ধরে কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। ফলে প্রায় ৩৬০টি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৬০টিই এখন অকার্যকর বা অস্বচ্ছ অবস্থায় রয়েছে। তারা মনে করছেন, দুর্বল করপোরেট সুশাসন ও জবাবদিহিতার অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনে অকার্যকর কোম্পানিগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার (ডিলিস্টিং) মতো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত