ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

মাত্র ২০ জনের কবজায় রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের ৬৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ

২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১২:২৯:০০

মাত্র ২০ জনের কবজায় রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের ৬৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশই মাত্র ২০ জন শীর্ষ খেলাপি গ্রাহকের হাতে আটকে আছে। এই বিশাল অংকের অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থতাকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ উল্লেখ করে সরকার ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের শেষ নাগাদ এই ছয়টি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৫৬২ কোটি টাকা। ব্যাংকভিত্তিক আদায়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংক ৩৬১ কোটি টাকা আদায় করে শীর্ষে রয়েছে। এরপর জনতা ব্যাংক ৫৬ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৩১ কোটি, সোনালী ব্যাংক ৯ কোটি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ৭ কোটি এবং বেসিক ব্যাংক মাত্র ৫ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এই আদায় পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) একটি বাস্তবসম্মত আদায় পরিকল্পনা বা ‘রিকভারি অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ:

শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনার পরিমাণ নিম্নরূপ:

জনতা ব্যাংক: ৫৮,৬৪২ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংক: ১৩,৯০৭ কোটি টাকা।

রূপালী ব্যাংক: ৮,৭৭৪ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংক: ৬,৭৪৩ কোটি টাকা।

বেসিক ব্যাংক: ২,৫৮০ কোটি টাকা।

বিডিবিএল: ৪৮৭ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংক বাদে বাকি সব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশের উপরে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক; ব্যাংকটির মোট ঋণের ৭০ শতাংশই এখন খেলাপি। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ৩৮ শতাংশ, অগ্রণীর ৩৫.৫২ শতাংশ এবং সোনালী ব্যাংকের খেলাপি হার ১৫ শতাংশ।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, অধিকাংশ বড় খেলাপি ঋণ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেক বড় খেলাপি গ্রাহক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ফলে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যারা দেশে আছেন তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধার আওতায় নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপির তালিকা থেকে নিজেদের নাম কাটিয়ে নিচ্ছেন।

সোনালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, বড় প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার প্রবণতাই এই বিশাল খেলাপি ঋণের অন্যতম কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের এই ধরণের বড় প্রকল্প মূল্যায়নের সক্ষমতা থাকে না, ফলে ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে না গিয়ে অন্যত্র ডাইভার্ট বা সরিয়ে ফেলা হয়। এছাড়া আইনি জটিলতা ও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে অনেক গ্রাহক খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এড়িয়ে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত