ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

শেয়ারবাজারে অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি, বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:২৫:১৩

শেয়ারবাজারে অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি, বিপাকে বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৭টি কোম্পানির অস্তিত্ব নিয়ে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষকরা। কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে ‘গোয়িং কনসার্ন’ সতর্কতা জারির মাধ্যমে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ১০ শতাংশেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এই অস্তিত্ব সংকটের মুখে রয়েছে। সাধারণত কোনো কোম্পানির ঋণের বোঝা, টানা লোকসান, তারল্য সংকট বা উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে নিরীক্ষকরা এই ধরনের সতর্কতা দিয়ে থাকেন।

অডিটরদের লাল তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের বারাকা পাওয়ার ও ডোরিন পাওয়ার, খাদ্য খাতের বিডি থাই ফুড এবং ব্যাংকিং খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতো পরিচিত নাম রয়েছে। এছাড়া তালিকায় বেশ কিছু বস্ত্র, ওষুধ এবং অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) নামও উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা গেছে, এই ৩৭টি কোম্পানির মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বা কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। এর মধ্যে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস টানা লোকসান এবং দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের কারণে সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে, সাফকো স্পিনিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসানের পাশাপাশি ১৪০ কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ অপরিশোধিত রয়েছে। কোম্পানিটি ইতিমধ্যে নামমাত্র মূল্যে তাদের মজুদ পণ্য বিক্রি করে দিয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের বারাকা পাওয়ারের একটি বড় কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ গত ২০২৪ সালের অক্টোবরে শেষ হওয়ার পর সেটি বন্ধ রয়েছে। নতুন করে চুক্তি নবায়ন না হলে কোম্পানিটির টিকে থাকা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন নিরীক্ষকরা। তবে ডোরিন পাওয়ার তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ পেয়ে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার কিছুটা আশা জাগিয়েছে।

এনবিএফআই খাতের প্রাইম ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ভয়াবহ তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণের ভারে জর্জরিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের পুঞ্জীভূত লোকসান ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের চলতি সম্পদ ও দায়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান থাকায় তাদের দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত প্রায় ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে এই ৩৭টি ছাড়াও আরও ২৩টি কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না এবং তাদের কার্যক্রমও নিষ্ক্রিয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০টি কোম্পানি এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল করপোরেট সুশাসন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খুচরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসি-কে আরও কঠোর হওয়ার এবং প্রয়োজনে অকার্যকর কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত