ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
লংকাবাংলার জরিপ
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করছে শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারের জন্য ২০২৬ সালে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং তারল্য সংকট। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ পরিচালিত সাম্প্রতিক এক মতামত জরিপে বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের এমন সতর্ক অথচ আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। গতকাল লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে বিভিন্ন পেশার ১০১ জন অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত প্রদান করেন।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, চলতি বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতাই বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। দ্বিতীয় প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তারল্য সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন ২২.৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। এছাড়া দুর্বল করপোরেট সুশাসন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া এবং উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্যের অভাবকেও বাজারের জন্য নেতিবাচক ফ্যাক্টর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাজার সংশ্লিষ্টরা পুরোপুরি হতাশ নন। জরিপ অনুযায়ী, ৪৫.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী গত ২০২৫ সালে নেওয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নীতিকে 'কার্যকর' এবং প্রায় ১০ শতাংশ 'অত্যন্ত কার্যকর' বলে মনে করেন। তবে একটি বড় অংশ এখনো নিয়ন্ত্রক তদারকির বিষয়ে সমালোচনা বজায় রেখেছেন, যা নির্দেশ করে যে বাজারের প্রতি পূর্ণ আস্থা ফিরতে আরও সময় প্রয়োজন।
অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, ২০২৬ সালে বাজার কোন দিকে যাবে তা মূলত নির্ভর করবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক ঝুঁকিকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন তারা। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দুর্বল সুশাসন এবং টাকার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কাকেও আন্তর্জাতিক মূলধন আসার পথে অন্তরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ৫,৫০০ থেকে ৬,৫০০ পয়েন্টের মধ্যে থাকবে বলে আশা করছেন অধিকাংশ বিনিয়োগকারী। দৈনিক লেনদেন খুব বেশি না বাড়লেও বাজার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে বলে তারা মনে করেন। জরিপ অনুযায়ী, চলতি বছর প্রবৃদ্ধির দৌড়ে শীর্ষে থাকতে পারে ব্যাংকিং খাত। এরপরই রয়েছে ওষুধ (ফার্মাসিউটিক্যালস) ও বীমা খাত।
অস্থিরতার মাঝেও বিনিয়োগকারীরা এখন মধ্যমেয়াদি বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী। অন্যান্য সম্পদের তুলনায় শেয়ারবাজার থেকে ভালো রিটার্ন পাওয়ার আশা করছেন ৫৩ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা। তবে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী। বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে লভ্যাংশের ওপর দ্বৈত কর প্রত্যাহার এবং মূলধনী মুনাফার ওপর কর কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশের বেশি মনে করেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। তবে কারসাজি ও জালিয়াতি রোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও কঠোর প্রয়োগ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তারা।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে যা জানা গেল
- অস্তিত্ব সংকটে ৩৭ কোম্পানি: অডিটরদের ‘লাল সংকেত’
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- ইরানের ভেতরে আটকা মার্কিন ক্রু, উদ্ধার অভিযানে তুমুল লড়াই
- বিভাজন নয়, ভ্রাতৃত্বের বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
- অনলাইন ক্লাস হতে পারে যেসব স্কুল-কলেজে
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে বিএসইসির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু