ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
আইপিও বাজারে আরও দীর্ঘ অপেক্ষার ইঙ্গিত
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংশোধিত পাবলিক ইস্যু বিধিমালার কড়াকড়িতে আগামী অন্তত পাঁচ মাসের মধ্যে শেয়ারবাজার-এ নতুন কোনো আইপিও আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আইপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য নতুন নিয়ম কার্যকর করা হলেও কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি।
বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, যেকোনো প্রতিষ্ঠান তাদের বার্ষিক, অর্ধবার্ষিক কিংবা প্রান্তিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আইপিও আবেদন জমা দিতে পারে। তবে সাধারণত অধিকাংশ কোম্পানিই তাদের পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক নিরীক্ষিত প্রতিবেদনের মাধ্যমেই প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও জমা দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর হলেও এখন পর্যন্ত ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করে কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার আবেদন করেনি। এতে বাজারের প্রাথমিক স্তরে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, একটি অর্থবছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে আইপিও প্রস্তাব জমা দিতে হয়। সেই হিসেবে যেসব প্রতিষ্ঠান ক্যালেন্ডার বছর (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) অনুসরণ করে, তাদের জন্য এই আবেদনের শেষ সময়সীমা আগামী ২৮ এপ্রিল।
তবে ইস্যু ব্যবস্থাপকদের দাবি, এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে নতুন কোনো আইপিও প্রস্তাব জমা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ, একটি নির্দিষ্ট হিসাবকাল শেষ হওয়ার পর আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতেই অন্তত এক মাস সময় পার হয়ে যায়।
এরপর সেই প্রতিবেদন নিরীক্ষা এবং পরিচালনা পর্ষদের চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে আরও বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল নিরীক্ষিত প্রতিবেদন তৈরি করতে সাধারণত দুই মাসের কম সময় লাগে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্র এক মাসের মধ্যে মানসম্মত নিরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ফলে ২০২৬ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করে যদি কোনো কোম্পানি বাজারে আসতে চায়, তবে তাদের আরও অন্তত পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
আগের নিয়মে আইপিও অনুমোদন পেতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অনেক সময় এক বছরেরও বেশি সময় লেগে যেত। অনেক কোম্পানি ভালো মুনাফা ও ডিভিডেন্ড দেওয়ার রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হতো।
নতুন বিধিমালায় এই বিলম্ব দূর করতে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ইস্যু ব্যবস্থাপকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মাত্র ২০ দিনের মধ্যে আইপিও প্রস্তাব গ্রহণ বা বাতিলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানাবে।
নতুন নিয়মে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে মাত্র ৪০ দিন এবং বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৫৩ দিনের মধ্যে আইপিও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি বিনিয়োগকারী ও কোম্পানি—উভয় পক্ষের জন্যই ইতিবাচক।
এছাড়া যেসব কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, তারা এখন থেকে বাজারে বেশি প্রিমিয়াম দাবি করার সুযোগ পাবে। আগে মূল্য নির্ধারণে নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ন্যায্য মূল্যায়ন না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বাজার থেকে দূরে থাকত।
মূলত তালিকাভুক্তির পথে থাকা যাবতীয় বাধা ও সময়ক্ষেপণ কমাতেই বাজার সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে এই আধুনিক বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এখানে একাধিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
এত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত নতুন আইপিও আবেদন না পড়া বাজারের জন্য একটি নেতিবাচক সংকেত। অনেক কোম্পানি ভালো মুনাফা করলেও তারা এই মুহূর্তে বাজারে আসার ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চ মাসে টেকনো ড্রাগস আইপিও প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও শেয়ারবাজার-এ নতুন কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার সাহস দেখায়নি।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ব্রাজিল বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ: জেনে নিন কবে, কোথায় খেলা
- আর্জেন্টিনা বনাম জাম্বিয়া: কবে, কখন জানুন সময়সূচী
- ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ আজকের খেলা
- চলছে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ, সরাসরি Live দেখুন এখানে
- বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ শেষ, জানুন ফলাফল
- সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ
- কিউএস বিষয়ভিত্তিক র্যাংকিং: বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেল ঢাবির ১০ বিভাগ
- জাতিসংঘের ভলান্টিয়ার হতে আবেদন করুন আজই
- আজ বাংলাদেশ বনাম নেপাল সাফ সেমি ফাইনাল: সরাসরি লাইভ দেখবেন যেভাবে
- ঢাবি চারুকলা অনুষদে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু
- সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ: নেপালের মুখোমুখি বাংলাদেশ, জেনে নিন কবে, কোথায় খেলা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সেকেন্ড টাইম’ ভর্তির বিষয়ে যা বললেন উপাচার্য
- স্বস্তির বার্তা দিল পাম্প মালিক সমিতি
- অনলাইন ক্লাস ও হোম অফিস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে? যা জানা গেল