ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিক্ষকের রোষানলে মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃ'ত্যু, অভিযোগ পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক: একই বিষয়ে একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে না পেরে অর্পিতা নওশিন নামে এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষকের রোষানলে পড়ে তিনি প্রয়োজনীয় নম্বর না পাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
সহপাঠীরা জানান, নওশিন মানসিক যন্ত্রণায় ১০৯ পিস এভেন্ডার ৪০ মিলিগ্রাম ওষুধ সেবন করেছিলেন।
অর্পিতা নওশিন কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই-এক বোনের মধ্যে অর্পিতা ছোট।
খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন নওশিন। এরপর সাদা এপ্রোনের স্বপ্ন নিয়ে তিনি ভর্তি হন বেসরকারি এই মেডিকেল কলেজে। তবে চিকিৎসক হওয়ার আগেই তার নিথর দেহ বাড়িতে ফিরছে।
অর্পিতার বন্ধুরা জানান, প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হন নওশিন। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার এনাটমির পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই তিনি ফেল করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফের ফল প্রকাশ করে। ২০২১-২২ সেশনের সবাই এখন পঞ্চম বর্ষে থাকলেও অর্পিতা নওশিন এখনো প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
অর্পিতার ভাই শাহরিয়ার আরমান বলেন, আমার বোন আত্মহত্যার মতো মানসিকতায় ছিল না। মূলত কলেজের মানসিক চাপের কারণেই সে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের কথা বলত। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষায়, অন্যদের পাস করানো হলেও তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হতো। বিষয়টি জানতে চাইলেও সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গতকালও বোনের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ফর্ম ফিলআপের জন্য টাকা নিয়েছে। আব্বুর ভয়ে বাড়িতে বলতে পারছিল না বলে তাকে সাহায্য করতে বলেছিল। কিন্তু এমন খবর আসবে তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
এ বিষয়ে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন ও এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিরা জহিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বলছেন কর্মকর্তারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)