ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

শেয়ারবাজারে সুদিন ফেরাতে সরকারি কোম্পানি তালিকার দাবি

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১০:২০:৩২

শেয়ারবাজারে সুদিন ফেরাতে সরকারি কোম্পানি তালিকার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্থবির হয়ে পড়া শেয়ারবাজারে প্রাণসঞ্চার করতে লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। নবনির্বাচিত সরকারের কাছে এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তুলে ধরার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) বিএসইসি ভবনে আয়োজিত মাসিক সমন্বয় সভায় এই দাবি জানানো হয়। বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের উপস্থিতিতে এই সভায় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার গ্রুপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় আলোচকরা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে ভালো মানের নতুন কোম্পানির অভাব বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। যদিও আইপিও সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা করা হয়েছে, তবুও বাজারে মানসম্মত শেয়ারের সরবরাহ এখনো কম। এই পরিস্থিতিতে সরকারি লাভজনক কোম্পানিগুলো বাজারে এলে তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজার দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে, যা দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে তালিকায় আনার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছিল। এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি নির্দিষ্ট উদাহরণ হিসেবে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) কথা উল্লেখ করেন। সাইফুল ইসলাম বলেন, সিডিবিএল একটি অত্যন্ত লাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা নিয়মিত বড় মুনাফা করছে। এই ধরণের প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত শেয়ারবাজারে নিয়ে আসা হলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীরা একটি শক্তিশালী মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।

সমন্বয় সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশন স্কিম পর্যালোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। স্টেকহোল্ডাররা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও এই কাঠামোর আধুনিকায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিএসইসি চেয়ারম্যান তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এছাড়া সভায় মার্কেটকে ‘ফ্রন্টিয়ার’ থেকে ‘এমার্জিং’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা, ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি (e-KYC) বাস্তবায়ন এবং কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘প্রোটেকশন ফান্ড’ কার্যকর করা এবং নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যা সমাধানের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, মার্জিন রুলস, মিউচুয়াল ফান্ড এবং পাবলিক অফারিং রুলসের মতো বড় নীতিমালাগুলো ইতিমধ্যে সংস্কার করা হয়েছে। করপোরেট গভর্নেন্স কোডও খুব শিগগিরই চূড়ান্ত হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, বড় ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে নিয়ে আসা কমিশনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে এটি সফল করতে সরকারের জোরালো সমর্থন এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত