ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে পারে আরব আমিরাত

২০২৬ এপ্রিল ০১ ২৩:১৫:৩৩

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে পারে আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যা বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রণালিটি উন্মুক্ত করতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমিরাত।

The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে উন্মুক্ত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব পাসের জন্য জোর তদবির চালাচ্ছে আবুধাবি। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) এ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে পারে, যা স্পন্সর করছে বাহরাইন।

আমিরাতের সামরিক পরিকল্পনা ও দ্বীপ দখলসংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মাইন অপসারণ এবং অন্যান্য সামরিক সহায়তায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া প্রণালিতে অবস্থিত ‘আবু মুসা’ দ্বীপটি দখলের জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্র-এর ওপর চাপ দিচ্ছে। বর্তমানে দ্বীপটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে এর দাবি করে আসছে।আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।

ইরানিদের প্রবেশাধিকারে কঠোর বিধিনিষেধউত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানিদের জন্য সীমান্তও কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে আমিরাত। বুধবার (১ মার্চ) এমিরেটস, ইতিহাদ ও ফ্লাইদুবাই এয়ারলাইন্স ঘোষণা করেছে—গোল্ডেন ভিসাধারী ছাড়া সাধারণ কোনো ইরানি নাগরিক এখন থেকে আমিরাতে প্রবেশ বা ট্রানজিট নিতে পারবেন না। পাশাপাশি দুবাইয়ে অবস্থিত ‘ইরানীয় হাসপাতাল’ ও ‘ইরানীয় ক্লাব’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব ও ইসরাইলের সংকেতএদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেহরানকে মোকাবিলায় তিনি এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে নিয়ে নতুন জোট গঠনের চেষ্টা করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু আরব দেশ ইতোমধ্যে ইসরাইলের পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব-ও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগে তারা পিছপা হবে না। ২০২৩ সালে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক সম্পর্কের আস্থাও এখন ভেঙে পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এই রুটে ইরানের অবরোধ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি ও খাদ্য আমদানিতেও প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যেখানে প্রধান শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত