ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যুদ্ধ থামাতে নতুন চুক্তি, শর্তে রাজি ইসরায়েল-লেবানন

২০২৬ জুন ০৪ ১০:০৬:৩০

যুদ্ধ থামাতে নতুন চুক্তি, শর্তে রাজি ইসরায়েল-লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে লেবানন ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হতে হলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। এই শর্ত পূরণ সাপেক্ষেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। কিন্তু দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ঘটনায় সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বুধবারের ওই সংঘাতে অন্তত ৯ জন নিহত হন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নির্ধারণের দায়িত্ব দুই দেশের সার্বভৌম সরকারের। কোনো রাষ্ট্র বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে লেবাননের ভবিষ্যৎ প্রভাবিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন চুক্তির অন্যতম শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় অবস্থানরত হিজবুল্লাহর সদস্য ও অপারেটিভদের সরিয়ে নিতে হবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় লেবাননে কয়েকটি ‘পাইলট জোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব এলাকায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না এবং সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ থাকবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর (এলএএফ) হাতে।

গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া একটি আংশিক যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতায় এই নতুন ঘোষণা এসেছে। সে সময় লেবানন জানিয়েছিল, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা থেকে বিরত থাকবে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল বৈরুতে বোমাবর্ষণ বন্ধ রাখবে।

পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন আবারও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে দুই দেশের প্রতিনিধিদের। তবে নতুন যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ।

আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চলমান আলোচনা একটি স্বাধীন, নিরাপদ ও হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত লেবানন গঠনের পথ তৈরি করতে পারে।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের চেহুর এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুজন প্যারামেডিক নিহত হন। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণে একটি বেসামরিক গাড়িও হামলার শিকার হয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সীমান্ত অতিক্রম করে আসা একটি ড্রোন ও দুটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশ।

বুধবার সন্ধ্যায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার আগে ইসরায়েল সতর্ক করে বলেছিল, সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় পুনরায় বিমান হামলা চালানো হবে। অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভিন্ন অবস্থানও দেখা গেছে। লেবানন সরকার দাবি করলেও হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি বলেন, প্রকৃতপক্ষে কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি; কেবল দাহিয়েহ অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনে হওয়া আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত মানতে হিজবুল্লাহ বাধ্য নয়।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত