ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

২০২৬ জুন ০৪ ১৬:৫১:১৬

হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য, মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও ভারতবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ এনে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনমনে বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যুক্ত করে দেওয়া তার বক্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব মন্তব্য দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৫২, ১৫৩, ১৫৩(এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২ ও ৩৫৩ ধারাসহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনএসের ১৫২ ধারা ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এছাড়া ১৫৩ ধারায় ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধের চেষ্টা বা সহায়তার বিষয়টি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা ছড়ানোর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মমতার বক্তব্যের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আগামী ৮ জুন হাইকোর্ট খোলার পর সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর গত ২ জুন প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে ফোন পেয়েছিলেন এবং বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক সমাবেশে মমতা বলেন, বাংলাদেশের এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল এবং পরে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ তাদের আটক করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

এ সময় অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার নির্দেশে ওই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল এবং কারা এতে জড়িত ছিল। তিনি দাবি করেন, সরকার পরিবর্তনের পরও পুরো ঘটনার বিষয়ে তার কাছে তথ্য রয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, এতদিন তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য প্রকাশ করলে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় তিনি সেই নাম প্রকাশ করতে চান না।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত