ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বিনিয়োগকারীদের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি: এলআর গ্লোবালের নিবন্ধন বাতিল

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৬:৩৮:৪৫

বিনিয়োগকারীদের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি: এলআর গ্লোবালের নিবন্ধন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থহানি, সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে ৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত কমিশনের এক বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ ও বিনিয়োগকারীদের আমানত রক্ষার তাগিদেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এলআর গ্লোবালের ব্যবস্থাপনায় থাকা যেসব ফান্ডের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো— ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। বিএসইসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বিএসইসির তদন্তে উঠে এসেছে যে, এলআর গ্লোবাল কোনো ধরনের আর্থিক বিশ্লেষণ ছাড়াই তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা ৬টি ফান্ড থেকে 'পদ্মা প্রিন্টার্স' (বর্তমান নাম কুয়েস্ট বিডিসি) নামক একটি কোম্পানিতে প্রায় ২৩.৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। নিয়ম ভেঙে চড়া মূল্যে শেয়ার কেনায় সাধারণ ইউনিট হোল্ডাররা বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে, এলআর গ্লোবাল ফান্ডের জন্য কুয়েস্ট বিডিসির শেয়ার ১৫.৮৮ টাকায় কিনলেও, তাদেরই সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'এলআরজি ভেঞ্চার' একই শেয়ার মাত্র ১০ টাকায় কিনেছে। এই দ্বিমুখী আচরণের ফলে লাভের অর্থ এলআর গ্লোবালের পকেটে গেলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন, যা স্পষ্টতই 'স্বার্থের সংঘাত' এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার পরিপন্থী।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চ বেতনে কর্মকর্তা নিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ট্রাস্টি বা কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড থেকে একজনকে কুয়েস্ট বিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। বর্তমানে এসব ফান্ডের ট্রাস্টিদের প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অডিট সম্পন্ন হওয়ার পর ফান্ডগুলো পরিচালনার জন্য নতুন কোনো দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে গত বছরের ২১ অক্টোবর কুয়েস্ট বিডিসির পরিচালকবৃন্দ, এলআর গ্লোবালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলাম এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুঁজিবাজারের কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রিয়াজ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মোট ১০৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অর্থপাচারের অভিযোগটি অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত