ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২
প্রভাবশালীদের খেয়ালখুশিতে চলছে আইসিসি: হারুন লরগাত
স্পোর্টস ডেস্ক: চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনার জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন আইসিসির সাবেক প্রধান নির্বাহী হারুন লরগাত। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া এবং ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেওয়া পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত সব মিলিয়ে তিনি এটিকে বৈশ্বিক ক্রিকেট শাসনের গভীর সংকট বলে মন্তব্য করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেট প্রশাসকের মতে, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে মাঠে না নামে, তাহলে সেটি ক্রিকেটের জন্য দুর্ভাগ্যজনক দৃষ্টান্ত হবে। লরগাত বলেন, এটি এমন এক ব্যর্থ বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর ইঙ্গিত দেয়, যেখানে একটি প্রভাবশালী সদস্য পুরো ব্যবস্থাকে নিজের ইচ্ছেমতো পরিচালনা করছে। ছোট ও দুর্বল বোর্ডগুলোর জন্য সেখানে ন্যায্যতার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
হারুন লরগাতের ভাষায়, আইসিসি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে ক্ষমতাধর বোর্ডের রাজনৈতিক সুবিধাই অংশগ্রহণের শর্ত নির্ধারণ করে দেয়। তিনি বলেন, যখন কোনো বোর্ড বিনা শাস্তিতে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে পারে, তখন বোঝা যায় নিয়ম-কানুন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। এখানে নীতির চেয়ে শক্তির প্রাধান্যই বেশি।
এই পরিস্থিতিকে তিনি কেবল একটি ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না। বরং এটিকে বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্বলতার ফল বলে উল্লেখ করেন। লরগাত বলেন, ন্যায়বিচার, সমতা ও নৈতিক নেতৃত্ব এই মূল্যবোধগুলো বর্তমান ক্রিকেট প্রশাসনে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
ভূরাজনীতি ক্রিকেটকে কতটা প্রভাবিত করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইসিসি বহু আগেই আর্থিক স্বার্থের কাছে নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়েছে। তার মতে, অর্থনৈতিক বাজারক্ষমতার কারণে একটি সদস্য বোর্ড এখন সময়সূচি, আয়োজক দেশ ও নীতিনির্ধারণ পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, উলফ রিপোর্টে প্রস্তাবিত সংস্কার যেমন বোর্ড ও ভোটিং কাঠামোর পরিবর্তন, চাহিদাভিত্তিক তহবিল ব্যবস্থা এবং শক্ত নৈতিক সুরক্ষা কাঠামো যদি বাস্তবায়ন করা হতো, তাহলে এই সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। কিন্তু শাসন সংস্কার এড়িয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান ও সিইওর ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করায় আইসিসি কার্যত ভূরাজনৈতিক সংঘাতকে অনিবার্য করে তুলেছে।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে ঘিরে অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন লরগাত। তার মতে, আইসিসি নিজেই এই ম্যাচকে বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। ফলে একটি ম্যাচই পুরো কাঠামোকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, যা ক্রীড়ানৈতিকতার বদলে শক্তি ও বাজারকে প্রাধান্য দেওয়ার ফল।
এই সংকট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাণিজ্যিক মূল্যও ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। লরগাত বলেন, বাণিজ্যিক অংশীদাররা ইতোমধ্যে কম মূল্যায়ন শুরু করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বাড়তি চাপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে যখন একটি বোর্ড মোট আয়ের প্রায় ৩৮.৫ শতাংশ পায়, তখন বাকিদের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলও এই প্রভাব এড়াতে পারবে না বলে মনে করেন হারুন লরগাত। তার মতে, বাংলাদেশের বাদ পড়া এবং পাকিস্তানের বয়কট সিদ্ধান্ত এশীয় ক্রিকেটের ভিতকে নড়িয়ে দেবে। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ন্যায্যতা আজ বাণিজ্যিক স্বার্থের কাছে কতটা অসহায়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- শুরু হচ্ছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’, স্কোয়াড ও সূচি ঘোষণা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে মাগুরা মাল্টিপ্লেক্স
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৩ ফেব্রুয়ারি)
- ইপিএস প্রকাশ করেছে আরডি ফুড
- ঢাবির ১৯ শিক্ষার্থী পেলেন ‘টিএফপি ক্রিয়েটিভ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
- দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিম চালু
- ১০০ টাকা প্রাইজ বন্ডের ১২২তম ড্র অনুষ্ঠিত, জেনে নিন বিজয়ী নম্বরগুলো
- জুলাই শহীদের বোনের দেওয়া উপহারে অশ্রুসিক্ত মির্জা ফখরুল
- শেয়ারবাজারের ৭ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় চমক