ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২
নিয়ন্ত্রক সংস্থার টানাপোড়েনে বিপর্যস্ত ব্যাংক ও শেয়ারবাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, নীতি বিচ্যুতি ও দলীয় প্রভাবের কারণেই ব্যাংক খাতসহ শেয়ারবাজারে আস্থাহীনতার গভীর সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শেয়ারবাজার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমএজেএফ)-এর প্রেসিডেন্ট এসএম গোলাম সামদানী ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, “২০০৯-১০ সালে ব্যাংকগুলোর সীমার বাইরে বেপরোয়া বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামে। এক সময় ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। তখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে ব্যাংক থেকে বিমার টাকা তুলতেও তদ্বির করতে হতো।”
সোমবার (০৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পলিসি এক্সচেঞ্জ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনার বিষয় ছিল— ‘ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা: পুঁজি কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ হাসনাত আলম। আরও বক্তব্য রাখেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, প্রাইম ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হাসান উর রশিদ ও সিটি ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। আলোচনা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মাসরুর রিয়াজ।
গোলাম সামদানী ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর শেয়ার অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে। অনেক ব্যাংকের শেয়ার ৪ বা ৫ টাকায় নেমে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ নতুন করে রাইট বা বোনাস শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। ব্যাংক খাত এখন বড় ধরনের আস্থাজনিত সংকটে ভুগছে।
তিনি আরও বলেন, আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ভালো কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি জরুরি। বহুজাতিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে আসা দরকার। ভালো কোম্পানি এলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে, বাজার সচল হবে, ব্যাংকের শেয়ারও শক্ত অবস্থানে ফিরবে।
সিএমএজেএফ সভাপতি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং আইডিআরএর মধ্যে কার্যকর কোনো সমন্বয় নেই। অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যখন বিএসইসি চেয়ারম্যান গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অনুমতি পাননি। অথচ আইন অনুযায়ী এই সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় থাকা বাধ্যতামূলক।
তিনি বলেন, এই অসামঞ্জস্যতার কারণেই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো নানা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ে। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের সঙ্গেও নীতি সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তাই পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি—নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ঐক্যবদ্ধ ও বাস্তবসম্মত সমন্বয়।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজ বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের ম্যাচ কখন, কোথায় এবং যেভাবে দেখবেন
- আজ ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচ কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন?
- বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম ম্যাচ চলছে, সরাসরি Live দেখুন এখানে
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা
- এপ্রিলে টানা পাঁচ দিনের লম্বা ছুটির সুযোগ
- ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে সোনার দামে
- এনসিপির শীর্ষ চার নেতার পদত্যাগ
- পিরিয়ডের রক্ত নিয়ে যে তথ্য দিল বিজ্ঞানীরা
- ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে বেঁধে রাখা নিয়ে যা জানা গেল
- দেশে সোনার বাজারে বড় দরপতন
- ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেশ ছাড়লেন নবীন ফ্যাশনের মালিক
- গুঞ্জন উড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- ভিডিও ভাইরাল: স্কুলছাত্রীর আত্মহ’ত্যা
- শেষ হলো বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম ম্যাচ, জানুন ফলাফল
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ