ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২
রিং শাইনের আইপিও তহবিল অবমুক্তির আবেদন আবারও নাকচ
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের প্রতিষ্ঠান রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের আইপিও তহবিল ব্যবহারের উদ্যোগ ফের থমকে গেল। প্রয়োজনীয় শেয়ারহোল্ডার সম্মতি নিশ্চিত করতে না পারায় কোম্পানিটির তহবিল অবমুক্তির আবেদন পুনরায় প্রত্যাখ্যান করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সম্প্রতি কমিশনের এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএসইসি সূত্র জানায়, কোম্পানিটি তাদের আইপিও প্রসপেক্টাসে নির্ধারিত তহবিল ব্যবহারের খাত ও বাস্তবায়ন সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে চেয়েছিল। তবে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী এ ধরনের সংশোধনের জন্য অন্তত ৫১ শতাংশ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের অনুমোদন প্রয়োজন। নির্ধারিত এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কমিশন আবেদনটি অনুমোদন দেয়নি। একই সঙ্গে আইপিও তহবিল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়ের প্রস্তাবও বাতিল করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর অবস্থানের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে রিং শাইনের অতীত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আইপিওর আগে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ২৭৫ কোটি টাকা মূলধন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে ওই অর্থের বড় অংশ কোম্পানির হিসাবে জমা হয়নি। এ ছাড়া আইপিও প্রসপেক্টাসে ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের দায়ে কোম্পানির ৯ জন পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিএসইসি। পাশাপাশি বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ অনিয়মের দায় শুধু কোম্পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রিং শাইনের আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষাকারী চারটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) ফার্মের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ থেকে ২০২০ অর্থবছর পর্যন্ত ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের অভিযোগে আহমেদ ও আখতার, সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং, মাহফেল হক অ্যান্ড কোং এবং এটিএ খান অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ জালিয়াতির মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আব্দুল কাদের ফারুক ও অশোক কুমার চিরিমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া রিং শাইন টেক্সটাইলস বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকার বেশি হলেও এর প্রায় ৫৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই বিএসইসি এবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও গত বছরের জুলাই মাসে একই ধরনের তহবিল অবমুক্তির আবেদন করেছিল রিং শাইন টেক্সটাইলস, যা তখনও কমিশনের অনুমোদন পায়নি।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে গোল্ডেন সন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে জেনেক্স ইনফোসিস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ডায়িং