ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২
গুজবের আগুনে পুড়েছে বাটা, তবুও ডিভিডেন্ডে চমক
আবু তাহের নয়ন
সিনিয়র রিপোর্টার
আবু তাহের নয়ন: উচ্চ বিক্রির হার ধরে রাখতে পারলেও 'অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে' পড়ে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বড় অঙ্কের লোকসান গুনেছে বাটা সু কোম্পানি। গত বছরের তুলনায় কোম্পানিটির ত্রৈমাসিক লোকসান ১৫৩ শতাংশ বেড়ে ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এই ধাক্কার পরও, পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বিশাল ১৪৩ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।
কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসানের মূল কারণ হিসেবে 'ভাঙচুরের ঘটনা' এবং 'কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াকে' দায়ী করা হয়েছে। কোম্পানি জানায়, "প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।"
জানা গেছে, এপ্রিল ২০২৫-এ ফিলিস্তিনপন্থী একটি প্রতিবাদের সময় বাটা সু-কে ইসরায়েলি কোম্পানি দাবি করে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট, বগুড়া এবং কক্সবাজারের বেশ কয়েকটি আউটলেট ভাঙচুর ও লুটের শিকার হয়েছিল। পরবর্তীতে বাটা কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানায়, তারা একটি চেক-প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি এবং এই সংঘাতের সঙ্গে তাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।
অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে বাটা সু-এর বিক্রি গত বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে এবং তা ১৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু এই বৃদ্ধিও লোকসানের চাপ সামলাতে পারেনি। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫৬ পয়সা, যা গত বছর একই সময়ে ছিল লোকসান ৯ টাকা ৩৪ পয়সা। গত বছরও অস্থিরতা ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণে কাজের দিন নষ্ট হওয়ায় কোম্পানিটিকে লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
কোম্পানি ত্রৈমাসিক লোকসানে থাকলেও, পরিচালনা পর্ষদ সংরক্ষিত মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৪৩ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীরা প্রতি শেয়ারে ১৪ টাকা ৩০ পয়সা করে পাবেন। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার। সেই হিসাবে, ডিভিডেন্ড বাবদ কোম্পানিটি মোট ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা প্রদান করবে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বাটা সু-এর সংরক্ষিত মুনাফার পরিমাণ ছিল ২৭৩ কোটি টাকা, যার ওপর ভর করেই লোকসানের মধ্যেও এত বড় ডিভিডেন্ড দেওয়া সম্ভব হলো। এই ডিভিডেন্ড পাওয়ার জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ নভেম্বর।
তবে, শেয়ারবাজারের জন্য স্বস্তির খবর হলো, টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান করলেও প্রথম প্রান্তিকের মুনাফা এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ায় বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটি সামগ্রিকভাবে এখনও মুনাফার ধারায় রয়েছে। উল্লেখ্য, বাটা সু কোম্পানি ২০২০ সালে প্রথমবার এমন বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যখন দেশব্যাপী লকডাউনের কারণে তাদের বার্ষিক বিক্রি ৪১ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এরপরও তারা বাজারে টিকে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা
- ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করল জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি
- ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে সোনার দামে
- পিরিয়ডের রক্ত নিয়ে যে তথ্য দিল বিজ্ঞানীরা
- ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে বেঁধে রাখা নিয়ে যা জানা গেল
- তিন দেশে আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন
- গুঞ্জন উড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- দেশে সোনার বাজারে বড় দরপতন
- ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেশ ছাড়লেন নবীন ফ্যাশনের মালিক
- ঈদ উপলক্ষে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি
- বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর টু’ কত টাকা আয় করল?
- ভিডিও ভাইরাল: স্কুলছাত্রীর আত্মহ’ত্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ
- বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ অর্জনের ১০ ধাপের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি
- একনজরে জেনে নিন রাজধানীর প্রধান জামাতগুলোর সময়সূচি