ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২
সূচক ডুবলেও সিএসইতে উল্টো স্রোতে লেনদেন
হাসান মাহমুদ ফারাবী
রিপোর্টার
হাসান মাহমুদ ফারাবী: টানা চার দিনের বড় পতনে দেশের শেয়ারবাজারে যখন হতাশার কালো মেঘ, তখনই এক বিপরীতমুখী চিত্র সামনে এনেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। গত কয়েক কার্যদিবস ধরে সূচকের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে কমছিল লেনদেনের অঙ্ক। কিন্তু আজকের (বৃহস্পতিবার) লেনদেন যেন সেই পুরোনো প্রবণতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল। আগেরদিন বুধবার সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল মাত্র ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা আজ বৃহস্পতিবার একলাফে প্রায় তিনগুণ বেড়ে ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এই অস্বাভাবিক লেনদেন বৃদ্ধি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জসহ (ডিএসই) পুরো বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এই হঠাৎ উল্লম্ফন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একই সাথে দ্বিধা এবং ভরসা জাগিয়েছে। টানা পতন এবং বাজারে তারল্য সংকটের মাঝে এই লেনদেন বৃদ্ধি আপাতদৃষ্টিতে বিশাল ইতিবাচক খবর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিএসই-তে বড় পতন সত্ত্বেও সিএসইতে বড় বিনিয়োগকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হয়তো অপেক্ষাকৃত কম দামে শেয়ার সংগ্রহ করেছেন, যা লেনদেনে এই বড় উল্লম্ফন এনেছে। এই পরিস্থিতি দেখায়, বাজারের মূল ভিত্তি এখনও টিকে আছে এবং কিছু স্মার্ট মানি পতনের সুযোগ নিতে প্রস্তুত।
তবে এই উচ্ছ্বাসের উল্টো পিঠও রয়েছে। যেখানে ডিএসই এখনও পতনের ধারায় এবং অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বড় লোকসানে, সেখানে শুধু সিএসইতে লেনদেন বৃদ্ধিকে তাৎক্ষণিক ভরসার উৎস হিসেবে দেখা গেলেও তা সামগ্রিক বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে না। অনেক সময় বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে সহজে এক্সিট বা বেরিয়ে যাওয়ার আগে কৌশলগতভাবে লেনদেন বাড়িয়ে থাকেন। এছাড়া, একক দিনে লেনদেন বৃদ্ধি সবসময় টেকসই গতিশীলতার সংকেত দেয় না—এটি নেতিবাচক বাজারে স্বল্পমেয়াদি সাময়িক উত্থানও হতে পারে।
তারপরও, চার দিনের ধারাবাহিক পতনের পর এই লেনদেন বৃদ্ধি বাজারে এক ধরনের 'আশার ঝলক' নিয়ে এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেননি; বরং অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা কম দামে থাকা শেয়ারগুলোতে তাদের আগ্রহ নতুন করে বাড়ছে। সিএসই-এর এই বিপরীত চিত্রটি বাজারের মোড় ঘোরানোর একটি নীরব ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সার্বিক বিশ্লেষণ বলছে, সিএসইর এই আজকের চিত্রটি হতাশ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক জয়ের খবর। এটি মনে করিয়ে দেয় যে মন্দার বাজারেও সুযোগ তৈরি হয় এবং স্মার্ট বিনিয়োগকারীরা সেই সুযোগ লুফে নিতে দ্বিধা করেন না। তবে বিনিয়োগকারীদের মনে রাখতে হবে—এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ইতিবাচক সংবাদে অতি-উচ্ছ্বসিত না হয়ে, তারা যেন ডিএসই এবং সিএসই-এর সূচক ও লেনদেনের পরবর্তী কয়েকদিনের গতিবিধি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করেন।
এএসএম/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজ বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের ম্যাচ কখন, কোথায় এবং যেভাবে দেখবেন
- বাংলাদেশ বনাম ভিয়েতনাম ম্যাচ চলছে, সরাসরি Live দেখুন এখানে
- সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা
- আজ ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স ম্যাচ কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন?
- ৪৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে সোনার দামে
- এনসিপির শীর্ষ চার নেতার পদত্যাগ
- পিরিয়ডের রক্ত নিয়ে যে তথ্য দিল বিজ্ঞানীরা
- এপ্রিলে টানা পাঁচ দিনের লম্বা ছুটির সুযোগ
- ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীকে বেঁধে রাখা নিয়ে যা জানা গেল
- দেশে সোনার বাজারে বড় দরপতন
- ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দেশ ছাড়লেন নবীন ফ্যাশনের মালিক
- গুঞ্জন উড়িয়ে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- বক্স অফিসে ‘ধুরন্ধর টু’ কত টাকা আয় করল?
- ভিডিও ভাইরাল: স্কুলছাত্রীর আত্মহ’ত্যা
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগ