ঢাকা, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
৩ বিলিয়নিয়ারের জীবনের মিল এক জায়গায়, কি সেই অজানা তথ্য?
মোবারক হোসেন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সফল উদ্যোক্তা ও বিলিয়নিয়ারদের জীবন প্রায়ই তাদের ব্যবসা, দূরদর্শিতা এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। কিন্তু স্টিভ জোবস, জেফ বেজোস এবং ল্যারি এলিসনের জীবনে এমন একটি দিক আছে, যা অনেকেই জানেন না—তিনজনই দত্তক নেওয়া সন্তান। তাদের দত্তক পরিবারগুলো তাদের জীবনে একটি নতুন শুরু, স্থিতিশীলতা এবং সমর্থন এনেছিল, যা তাদের সাফল্যের পথে বড় ভূমিকা রাখে।
স্টিভ জোবস: সৃজনশীলতার শক্তি
অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবস সিরীয় বংশোদ্ভূত বাবা এবং আমেরিকান মায়ের সন্তান ছিলেন। তার মা যখন সম্পর্ক মেনে নিতে পারছিলেন না, তখন তিনি জোবসকে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে যে দম্পতি তাকে নিতে চেয়েছিলেন, তারা পিছিয়ে যান, এবং পরে পল ও ক্লারা জোবস জোবসকে দত্তক নেন। এই দম্পতি তাকে কলেজে পড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
পল ও ক্লারার যত্ন ও সমর্থন স্টিভ জোবসকে সৃজনশীলতা, কৌতূহল এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহে অনুপ্রাণিত করে। এটি পরে অ্যাপল ও পিক্সারে তার অসাধারণ উদ্ভাবনের ভিত্তি তৈরি করে। জোবস সবসময় তার দত্তক পিতামাতাকে তার প্রকৃত পরিবার মনে করতেন।
জেফ বেজোস: প্রতিকূলতা থেকে সুযোগ
অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের শৈশবে পারিবারিক অস্থিরতা ছিল। তার মা জ্যাকেলিন তাকে একা বড় করছিলেন। বেজোসের যখন চার বছর বয়সে জ্যাকেলিন মাইকেল “মাইক” তখন বেজোসকে বিয়ে করেন, যিনি জেফকে দত্তক নেন এবং তার নাম পরিবর্তন করে দেন। মাইক জেফকে শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং শেখার প্রতি ভালোবাসা শিখিয়েছেন।
এই স্থিতিশীল পরিবেশ জেফকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি হতে সাহায্য করে। মাইক বেজোসের সমর্থন ও দিকনির্দেশনার কারণে জেফ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং ব্যবসা সম্পর্কে আগ্রহী হন। দত্তক গ্রহণ জেফকে একটি নিরাপদ ও সমর্থনমূলক পরিবারিক পরিবেশ দেয়, যা পরে অ্যামাজনের মতো সফল কোম্পানি গঠনে শক্তি যোগায়।
ল্যারি এলিসন: আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক
অরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন জন্মগ্রহণ করেন নিউইয়র্কে এক ১৯ বছর বয়সী অবিবাহিত মায়ের সন্তান হিসেবে। শৈশবে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন, যা তার মা জন্য কঠিন সময় ছিল। তাই ল্যারি দত্তক দেওয়া হয় তার মায়ের খালা ও চাচা লিলিয়ান ও লুই এলিসনের হাতে।
লিলিয়ান তাকে খুব ভালোবাসতেন, কিন্তু লুই প্রায়শই কঠোর ও উদাসীন ছিলেন। সীমিত আর্থিক পরিস্থিতিতে শিকাগোর সাউথ সাইডে বেড়ে ওঠায় ল্যারি স্বাধীনতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও আত্মনির্ভরশীলতার বোধ তৈরি করেন। এগুলো পরে তার ব্যবসায়িক মনোভাব এবং অরাকলে সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি হয়। তিনি তার আসল মায়ের সাথে ৪৮ বছর বয়সে প্রথম দেখা করেন।
স্টিভ জোবস, জেফ বেজোস এবং ল্যারি এলিসনের জীবন প্রমাণ করে, দত্তক নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়। বরং এটি তাদের জীবনে নতুন সুযোগ, সমর্থন এবং স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছে। তাদের দত্তক পরিবারগুলো এমন একটি পরিবেশ দিয়েছে, যেখানে তারা নিজেদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি বিকশিত করতে পেরেছেন। এই কারণেই তারা বিশ্বের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
এমজে
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- চলছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের ম্যাচ: খেলাটি সরাসরি দেখুন (LIVE)
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র নতুন কমিটি ঘোষণা
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী
- শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ
- সাদিক কায়েমের বিয়ে নিয়ে যা জানা গেছে
- মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন যুগের শুরু: গাইডলাইন প্রকাশ করল বিএসইসি
- ব্যবসায় বড় লাফ ইউসিবি ও লিন্ডে বিডির
- মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এমজেএফের
- ঢাবিতে প্রথমবারের মতো আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফি কর্মশালা
- ঢাবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল
- ৫৪ জেলায় টিসিবির ডিলার নিয়োগ, আবেদন শুরু ১০ মে
- দেশে বাড়লো সোনার দাম
- মৌসুমীর ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য জেবা জান্নাতের
- ঢাবির নতুন প্রো-ভিসি আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীর যোগদান
- ঈদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি, মাদরাসায় টানা ২১ দিন বন্ধ