ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
‘অখণ্ড ভারত’ ভাবনা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ‘অখণ্ড ভারত’ ধরনের যেকোনো সম্প্রসারণবাদী বা আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক কল্পনা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সমতা, পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্য প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের নয়, দুই সার্বভৌম প্রতিবেশীর সমমর্যাদার সম্পর্ক হওয়া প্রয়োজন। ‘আমরা আধিপত্য চাই না, সংঘাতও চাই না।’
রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পোস্টে তিনি ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি বিষয়টিকে একজন প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের দায়িত্ব হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছিলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন তোলেন, শুধু শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়, গত এক দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও কি ভারত কখনো আত্মসমালোচনা করবে? তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি বক্তব্যে সুকৌশলে অনুচ্চারিত থেকে গেছে।
তিনি লেখেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের জনগণের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়নের চিত্র জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তদন্তে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন এবং নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপকভাবে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করেছিল।
শেখ হাসিনার সরকারের সেই শাসনব্যবস্থার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তাঁর ভাষ্য, ভারত যখন শুধু ‘প্রতিবেশীর দায়িত্ব’ হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে, তখন বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো—প্রতিবেশীর দায়িত্ব কি শুধু ক্ষমতাচ্যুত একজন শাসককে আশ্রয় দেওয়া, নাকি প্রতিবেশী দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বকেও সম্মান করা?
সীমান্ত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি লেখেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এখনো প্রাণহানি বন্ধ হয়নি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২১টি সীমান্ত সহিংসতার ঘটনায় ১০ জন বাংলাদেশি নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch) ভারতের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বাঙালি বাসিন্দাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ নথিবদ্ধ করেছে। তাদের হিসাবে, জুনের প্রথম দিক থেকে ২০০-এর বেশি মানুষকে সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার ২১টি প্রচেষ্টা বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীরা ঠেকিয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারত-বাংলাদেশের নিজেদের সরকারি নথিতেও সীমান্তে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, প্রতিবেশীর দায়িত্বের কথা বলা হলে সীমান্তে একজন নিরস্ত্র মানুষের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রেও সেই দায়িত্ব সমানভাবে প্রযোজ্য নয় কেন?
বাংলাদেশ ভারতবিরোধী কোনো রাষ্ট্র হতে চায় না উল্লেখ করে তিনি লেখেন, দুই দেশের সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। বন্ধুত্ব, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকবে; তবে এর ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা ও ন্যায্য স্বার্থ। ভারতের উচিত বাংলাদেশের জনগণকে কোনো বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কল্পনার অংশ হিসেবে না দেখে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতির জনগণ হিসেবে বিবেচনা করা।
‘অখণ্ড ভারত’ ধরনের যেকোনো সম্প্রসারণবাদী বা আধিপত্যবাদী রাজনৈতিক কল্পনা বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে আবারও উল্লেখ করেন এনসিপির এই নেতা। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভূখণ্ড ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মানই টেকসই প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।
বাংলাদেশের নদীর ন্যায্য হিস্যা, সীমান্তে মানুষের নিরাপত্তা, বাণিজ্যে ভারসাম্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে অযাচিত প্রভাব—এসব প্রশ্ন চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সমতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে তিনি লেখেন। গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভাষ্য, ভারতের এখন পরিষ্কারভাবে বোঝার সময় এসেছে যে বাংলাদেশ কোনো অধীনস্থ ভূখণ্ড নয়, কোনো ‘পিছনের উঠান’ নয় এবং কোনো বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় কল্পনার অংশও নয়। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ভারত যদি সত্যিই প্রতিবেশীর দায়িত্বের কথা বলে, তাহলে সেই দায়িত্বের প্রথম শর্ত হওয়া উচিত বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত, জাতীয় মর্যাদা, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভূখণ্ডের প্রতি পূর্ণ সম্মান।
‘আমরা আধিপত্য চাই না, সংঘাতও চাই না’ উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাঁরা সমতার বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্য প্রতিবেশী সম্পর্ক চান। তাঁর মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের সম্পর্ক নয়; হওয়া উচিত দুই সার্বভৌম প্রতিবেশীর সমান মর্যাদার সম্পর্ক।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- একসঙ্গে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার করল সরকার, দেখুন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র
- ৩৯ পদে ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- ৪৩ পদে নিয়োগ দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৯ সেপ্টেম্বর)
- এইচএসসি উত্তীর্ণদের বৃত্তি দেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, জানুন বিস্তারিত
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ সালমান মুক্তাদিরের
- তিন পদে ৩৫ জনকে নিয়োগ দেবে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়
- ওয়ালটনে টেরিটরি সেলস ম্যানেজার পদে নিয়োগ
- মাসে ৩৫শ রিঙ্গিত বৃত্তিতে মালায়ায় পিএইচডির সুযোগ
- একাদশে দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- এইচএসসি পাসেই ৪৭ পদে চাকরি দেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
- বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরি, আবেদন ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- ১ অক্টোবর ফেনী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী