ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
আঙুলের গিঁট ফাটালে কি সত্যিই বাত হয়?
ডুয়া ডেস্ক: আঙুলের গিঁট ফাটানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কেউ এতে স্বস্তি অনুভব করেন, আবার কারও কাছে এই শব্দ বেশ বিরক্তিকর। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, নিয়মিত আঙুলের গিঁট ফাটালে পরবর্তী সময়ে বাত বা আর্থ্রাইটিস হতে পারে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এ দাবির পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সবচেয়ে আলোচিত একটি পরীক্ষা করেছিলেন মার্কিন চিকিৎসক ডোনাল্ড উঙ্গার। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিদিন নিজের বাম হাতের আঙুলের গিঁট ফাটিয়েছেন। একই সময়ে ডান হাতের গিঁট ফাটানোর অভ্যাস থেকে বিরত ছিলেন।
৭২ বছর বয়সে দুই হাতের এক্স-রে করার পর দেখা যায়, কোনো হাতেই আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ নেই। এমনকি দুই হাতের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
গিঁট ফাটানোর শব্দ হয় যেভাবে
আঙুলের প্রতিটি জোড়ায় পিচ্ছিল তরল থাকে, যাকে বলা হয় সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। আঙুল টানলে বা বাঁকালে জোড়ার ভেতরের চাপের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে ওই তরলে দ্রবীভূত গ্যাস থেকে ছোট ছোট বুদবুদ তৈরি হয়।
এই বুদবুদ দ্রুত তৈরি হওয়া ও ভেঙে যাওয়ার সময়ই পরিচিত ‘কটকট’ শব্দটি শোনা যায়। গবেষণা অনুযায়ী, এই শব্দের তীব্রতা সর্বোচ্চ প্রায় ৮৩ ডেসিবেল পর্যন্ত হতে পারে, যা কাছ দিয়ে একটি ডিজেলচালিত ট্রাক যাওয়ার সময়ের শব্দের সঙ্গে তুলনীয়।
তাহলে কি গিঁট ফাটালে আর্থ্রাইটিস হয়?
বর্তমান গবেষণা বলছে, সাধারণভাবে হয় না।
বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত আঙুলের গিঁট ফাটানোর সঙ্গে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। এমনকি এতে আঙুল মোটা হয়ে যায়, টেনডন ঢিলে হয়ে যায় বা হাতের মুঠির শক্তি কমে যায়-এমন দাবির পক্ষেও শক্ত কোনো প্রমাণ নেই।
তবে অতিরিক্ত জোরে বা হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে কোনো জোড়া ফাটানোর চেষ্টা করলে মচকে যাওয়া বা অন্য ধরনের আঘাত লাগতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।
চিকিৎসকেরা বলছেন, আঙুলের গিঁট ফাটানোর সময় যদি ব্যথা, ফোলা বা নড়াচড়ায় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এসব লক্ষণ জোড়ায় অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘাড় ফাটানোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি
তবে আঙুলের গিঁট ফাটানো এবং ঘাড় ফাটানোকে একভাবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ঘাড়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ঘাড়ের ভেতরে রয়েছে মেরুদণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী বড় বড় ধমনি। তাই অতিরিক্ত জোরে বা ভুল পদ্ধতিতে ঘাড়ের হাড় ফাটানোর চেষ্টা করলে বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অনেকে আঙুলের গিঁট ফাটানোর পর সাময়িক স্বস্তি বা জোড়ার নড়াচড়া কিছুটা সহজ অনুভব করেন। তবে ঠিক কী কারণে এমন অনুভূতি হয়, তা পুরোপুরি বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
শেষ কথা
বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত আঙুলের গিঁট ফাটানো ক্ষতিকর বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি আর্থ্রাইটিসের কারণ-এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই।
তবে কোনো জোড়ায় অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করে ফাটানো উচিত নয়। আর গিঁট ফাটানোর সঙ্গে যদি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা কিংবা নড়াচড়ায় সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জুলাইয়ের বেতন ফাইল চূড়ান্ত
- এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করবেন যেভাবে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের ফল দেখবেন যেভাবে
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- পরীক্ষায় ফেল বা খারাপ করার পর শিক্ষার্থীদের করণীয় কী
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)