ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও বিশ্বসেরা হয়েছেন জ্যাক মা
ডুয়া ডেস্ক: এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছ? মনে হচ্ছে, ফল খারাপ হলে জীবনের সব পথ বন্ধ হয়ে যাবে? তাহলে চীনা উদ্যোক্তা জ্যাক মার জীবন থেকে কিছুটা অনুপ্রেরণা নেওয়া যেতে পারে। কারণ, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের শুরুতেও একের পর এক ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। পরে সেই ব্যর্থতাকেই শক্তিতে পরিণত করে গড়ে তুলেছেন বিশ্বের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা।
জ্যাক মা ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি শেখার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তবে গণিতে তিনি ছিলেন দুর্বল। চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় তিনি দুবার ব্যর্থ হন। তৃতীয়বারের চেষ্টায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান হাংঝো টিচার্স ইনস্টিটিউটে। ১৯৮৮ সালে সেখান থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনের এই ব্যর্থতা অবশ্য তাঁকে থামিয়ে দেয়নি। বরং নিজের আগ্রহ ও দক্ষতার জায়গাটি খুঁজে নিয়ে তিনি ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর জ্যাক মা একাধিক চাকরির জন্য আবেদন করেন এবং প্রত্যাখ্যাত হন। তিনি নিজেই বিভিন্ন বক্তব্যে জানিয়েছেন, চাকরির জন্য আবেদন করে বারবার ব্যর্থ হওয়ার কথা। এমনকি কেএফসিতেও চাকরি পাননি। Forbes-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় শেষে তিনি যেসব চাকরিতে আবেদন করেছিলেন, সেগুলোতে প্রত্যাখ্যাত হন।
তবে এসব প্রত্যাখ্যান তাঁর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।
১৯৯৫ সালে ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচয়
জ্যাক মার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ১৯৯৫ সালে। একটি ব্যবসায়িক সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি প্রথমবার ইন্টারনেটের সঙ্গে পরিচিত হন। ইন্টারনেটে ‘চায়না’ লিখে খুঁজে তেমন কোনো তথ্য না পাওয়ার ঘটনা তাঁকে নতুন সম্ভাবনার কথা ভাবায়। দেশে ফিরে তিনি ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার উদ্যোগ নেন।
সে সময় তিনি ‘চায়না পেজেস’ নামে একটি অনলাইন উদ্যোগ শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। কিন্তু এই ব্যর্থতাও তাঁকে থামাতে পারেনি।
যেভাবে শুরু আলিবাবার
১৯৯৯ সালে হাংঝোতে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ১৭ জন অন্য ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে আলিবাবা শুরু করেন জ্যাক মা। প্রাথমিকভাবে ৬০ হাজার ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ইন্টারনেটের মাধ্যমে চীনের ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে বিশ্বের বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।
শুরুর দিনগুলো সহজ ছিল না। বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে আলিবাবা বড় হতে থাকে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
এসএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষণীয় কী?
জ্যাক মার গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো- একটি পরীক্ষার ফলাফল কিংবা কয়েকটি ব্যর্থতা দিয়ে একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দুবার ব্যর্থ হয়েছেন, কর্মজীবনের শুরুতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন এবং তাঁর প্রথম দিকের ব্যবসায়িক উদ্যোগও সফল হয়নি। তবু তিনি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
তাই এসএসসির ফল আশানুরূপ না হলে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। ফলাফল খারাপ হলে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যাওয়া যায়। যে বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, সেটিতে আরও মনোযোগ দেওয়া, প্রয়োজন হলে শিক্ষকের সহায়তা নেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়াই হতে পারে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ।
জ্যাক মার জীবন মনে করিয়ে দেয়, ব্যর্থতা কোনো চূড়ান্ত পরিচয় নয়। বরং ব্যর্থতার পর কীভাবে নিজেকে সামলে আবার চেষ্টা করা যায়, সেটিই অনেক সময় ভবিষ্যৎ সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে।
তাই ফল যাই হোক, আত্মবিশ্বাস হারানো নয়। একটি মার্কশিট তোমার পুরো জীবন নির্ধারণ করে না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সবসময়ই থাকে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ আগস্ট)
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণ-রুপার দাম (৫ আগস্ট)
- পাঁচ দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দিল সরকার
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৬ আগস্ট)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড: ঢাবির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
- পিএসসিতে আরও চার সদস্য নিয়োগ
- কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ স্কলারশিপে আবেদন শুরু