ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

নবীজির (সা.) হাস্যোজ্জ্বল আচরণ ও সাহাবিদের প্রতি অনন্য ভালোবাসা

২০২৬ জুলাই ২৪ ১৫:৩২:৪৮

নবীজির (সা.) হাস্যোজ্জ্বল আচরণ ও সাহাবিদের প্রতি অনন্য ভালোবাসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ। রাষ্ট্রপ্রধান ও আল্লাহর প্রেরিত শ্রেষ্ঠ রাসুল হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাহাবিদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক, সহজ ও স্নেহপূর্ণ আচরণ করতেন। তার জীবনচর্চায় যেমন ছিল বিনয়, তেমনি ছিল নির্মল রসিকতা ও হাসিমুখে মানুষের সঙ্গে মিশে থাকার অনন্য দৃষ্টান্ত।

জাহের ইবনে হারাম আল-আসলামী (রা.) ছিলেন একজন বেদুইন সাহাবি। তিনি মদিনা থেকে দূরের একটি পল্লী এলাকায় বসবাস করতেন। মহানবীর (সা.) প্রতি তার ছিল গভীর ভালোবাসা। যখনই তিনি গ্রাম থেকে মদিনায় আসতেন, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ফলমূল, পনির কিংবা অন্যান্য উপহারসামগ্রী মহানবীর (সা.) জন্য নিয়ে আসতেন। বিনিময়ে তিনি নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার সময় মহানবীও (সা.) শহরের বিভিন্ন উপহার দিয়ে তাকে বিদায় জানাতেন।

এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) বলতেন, ‘জাহের আমাদের গ্রাম, আর আমরা তার শহর।’ অর্থাৎ, জাহের যেমন গ্রাম থেকে উপহার নিয়ে আসতেন, তেমনি শহরের পক্ষ থেকে মহানবী (সা.)ও তাকে আন্তরিকতার সঙ্গে উপহার দিতেন।

একদিন জাহের আল-আসলামী (রা.) মদিনার বাজারে পণ্য বিক্রি করছিলেন। সে সময় মহানবী (সা.) পেছন থেকে এসে তাকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরেন যে তিনি পেছনে তাকাতে পারছিলেন না। জাহের (রা.) প্রথমে বলেন, ‘কে? আমাকে ছাড়ুন!’ পরে বুঝতে পারেন, তাকে জড়িয়ে ধরেছেন মহানবী (সা.)। তখন তিনি আরও বেশি করে নবীজির বুকে হেলে থাকার চেষ্টা করেন।

এরপর মহানবী (সা.) রসিকতার ছলে বলেন, ‘এ গোলামকে কে কিনবে?’ জাহের (রা.) জবাবে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমাকে বিক্রি করে তেমন মূল্য পাবেন না।’ তিনি ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ ও নিজের চেহারা সম্পর্কে বিনয়ী ধারণা পোষণ করতেন। তখন মহানবী (সা.) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘কিন্তু আল্লাহর কাছে তুমি কম মূল্যবান নও।’ (মুসনাদে আহমদ)

জাহের (রা.) কোনো দাস ছিলেন না। মদিনার সবাই তা জানতেন। মহানবী (সা.) কেবল স্নেহ ও রসিকতার ছলেই এ কথা বলেছিলেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, সাধারণ ও গ্রাম্য জীবনযাপনকারী সাহাবিদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও সহজ।

মহানবী (সা.) ছিলেন তৎকালীন মদিনার রাষ্ট্রপ্রধান এবং আরবের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ক্ষমতা তাকে কখনো অহংকারী করে তুলতে পারেনি। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন এবং বিনয়ের সঙ্গে মিশতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জাযআ (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি।’ (সুনানে তিরমিজি)

হজরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে কখনও আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাকে তাঁর কাছে যেতে বাধা দেননি এবং যখনই তিনি আমার দিকে তাকাতেন, তখনই মুচকি হাসতেন।’ (সহিহ বুখারি)

বিভিন্ন সাহাবির সঙ্গে মহানবী (সা.) মাঝেমধ্যে রসিকতা করতেন। তবে তার রসিকতায় কখনো মিথ্যার আশ্রয় থাকত না, কারও মনে আঘাতও লাগত না। তার প্রতিটি আচরণ ছিল শালীনতা, সৌজন্য ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে নতুন... বিস্তারিত