ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
বদনজর থেকে সুরক্ষায় কালো সুতা, কী বলে ইসলাম
ডুয়া ডেস্ক: বদনজর বা কুদৃষ্টি নিয়ে সমাজে নানা ধরনের বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নজর লাগার আশঙ্কায় অনেকে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তবে ইসলামি শরিয়তে বদনজরের বাস্তবতা এবং এর থেকে সুরক্ষার উপায় সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি জানা যাক।
বদনজর সম্পর্কে ইসলামের অবস্থান
ইসলামে বদনজরের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়নি; বরং এর সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। তবে একজন মুমিনের বিশ্বাস হলো, আল্লাহর নির্ধারিত অনুমতি ছাড়া কোনো সৃষ্টি কারও ক্ষতি করতে পারে না। তাই বদনজরসহ যেকোনো অনিষ্ট থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর ওপরই ভরসা করা এবং তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
اَلْعَيْنُ حَقٌّ
‘বদনজর লাগা সত্য।’ (বুখারি ৫৭৪০)
কালো সুতা বাঁধার বিধান কী
বদনজর থেকে বাঁচতে অনেকেই হাতে, পায়ে বা গলায় কালো সুতা বাঁধেন। কেউ কেউ আবার কুরআনের আয়াত পড়ে তাতে ফুঁ দিয়ে সেই সুতা শরীরে ব্যবহার করেন। কিন্তু কালো সুতা বা এ ধরনের কোনো বস্তু নিজস্ব ক্ষমতায় নজর বা অকল্যাণ থেকে রক্ষা করতে পারে-এমন কোনো নির্ভরযোগ্য কুরআনি বা হাদিসের দলিল নেই।
হাদিসে এসেছে-
انْبِذْهَا عَنْكَ، فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا
‘রাসুলুল্লাহ (স.) এক ব্যক্তির হাতে একটি ধাতব বালা দেখে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন। লোকটি জানায়, এটি দুর্বলতার জন্য পরেছে। তখন নবীজি (স.) সেটি খুলে ফেলতে বলেন এবং সতর্ক করেন যে, এটি তার দুর্বলতাই বাড়াবে।’ (মুসনাদ আহমদ ১৯৪৯৯)
অন্যদিকে, কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম ও মাসনুন দোয়া পড়ে তাঁর কাছে আশ্রয় চাওয়া এবং রোগ বা নজরের ক্ষেত্রে রুকইয়া করা শরিয়তসম্মত। কারণ এতে নির্ভরতা থাকে আল্লাহর ওপর। তবে কুরআন পড়ে কোনো সুতায় ফুঁ দিয়ে তা শরীরে বাঁধার বিষয়টি সাধারণ রুকইয়ার মতো নয়; এটি তাবিজ ব্যবহারের আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের মতামত অনুসরণ করা উত্তম। কোনো বস্তুকে নিজে রক্ষাকারী মনে করা বা তার ওপর নির্ভর করা ইসলামি আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নজর থেকে বাঁচতে যেসব আমল
বদনজর ও অন্যান্য অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার বিভিন্ন সুন্নাহসম্মত আমল রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। শিশুদের সুরক্ষার জন্যও তিনি বিশেষ দোয়া পড়তেন। হাদিসে এসেছে-
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ: ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বনিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লা-ম্মাতিন।’
অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীর মাধ্যমে প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং ক্ষতিকর দৃষ্টি থেকে আশ্রয় চাই।’ (বুখারি ৩৩৭১)
কারও সন্তান, সৌন্দর্য, সম্পদ কিংবা সাফল্য দেখে মুগ্ধ হলে তার জন্য সঙ্গে সঙ্গে বরকতের দোয়া করা উচিত। একই সঙ্গে নিজের কোনো নিয়ামত নিয়ে অহংকার না করে সব সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করাও মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
বদনজরের আশঙ্কা যেন মানুষকে কুসংস্কার কিংবা অমূলক আতঙ্কের মধ্যে না ফেলে। কালো সুতা নিজে থেকে নজর প্রতিহত করে—এমন বিশ্বাসের ইসলামি ভিত্তি নেই। তাই কুসংস্কারের পরিবর্তে সুন্নাহসম্মত আমল করা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রাখা এবং তাঁর কাছেই আশ্রয় চাওয়াই মুমিনের সঠিক পথ।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল আজ, জানা যাবে ৩ উপায়ে
- দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব বাড়াল সরকার
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)