×

ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

জুমার দিনের ফজিলত অর্জনে যেসব সুন্নত ও আমল অবহেলা করা যাবে না

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ১০:৪৮:১৯

জুমার দিনের ফজিলত অর্জনে যেসব সুন্নত ও আমল অবহেলা করা যাবে না

ডুয়া ডেস্ক: ইসলামে জুমার দিন সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত। এটিকে বলা হয় ‘সাপ্তাহিক ঈদ’। এই দিনটি ফজিলতে পরিপূর্ণ এবং এতে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হওয়ার আশা সবচেয়ে বেশি। তাই জুমা কেবল মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ই শুধু নয়; বরং সুন্নত অনুযায়ী গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা, সবার আগে মসজিদে যাওয়া, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, কোরআন তিলাওয়াত—বিশেষ করে সূরা আল-কাহফ পাঠ এবং দোয়া-ইস্তিগফারের মতো আমলের মাধ্যমেও এই দিনের পরিপূর্ণ বরকত ও ফজিলত অর্জন করা যায়। আলেমদের মতে, এই দিনের পূর্ণ বরকত লাভ করতে হলে যেসব সুন্নত ও আমল অবহেলা করা যাবে না, তা নিচে তুলে ধরা হলো।

১. জুমার নামাজ আদায় করা

পবিত্র কোরআনের সূরা জুমুআর ৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য ডাকা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ত্যাগ কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।’

ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) ‘যাদুল মাআদ’ গ্রন্থে বলেন, জুমার নামাজ ইসলামের অন্যতম তাগিদপূর্ণ ফরজ। এটি মুসলমানদের অন্যতম মহান সম্মিলন এবং আরাফার সম্মিলন ছাড়া অন্য সব সম্মিলনের চেয়ে এটি মহান ও অধিক আবশ্যকীয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরের ওপর মোহর মেরে দেন।

আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ মুসলিম শরিফের হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘অবশ্যই একদল মানুষ হয়তো জুমার নামাজ ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকবে, নয়তো আল্লাহ তাদের অন্তরগুলোর ওপর মোহর মেরে দেবেন। এরপর তারা গাফিলদের মধ্যে পরিগণিত হয়ে যাবে।’

২. দোয়াতে মগ্ন থাকা

জুমার দিন দোয়া কবুলের একটি অন্যতম সময় রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তাতে এমন একটি সময় রয়েছে। কোনো মুসলিম বান্দার দাঁড়িয়ে নামাজরত আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া যদি ওই সময়ে পড়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তাকে সেটি দান করেন।’ [সহিহ বুখারী (৮৯৩) ও সহিহ মুসলিম (৮৫২)]

৩. সূরা কাহফ পড়া

মুস্তাদরাকে হাকেম গ্রন্থে আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত করে দেওয়া হবে।’

৪. বেশি বেশি দরুদ পড়া

আওস বিন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নিশ্চয় তোমাদের সবচেয়ে উত্তম দিন হচ্ছে জুমার দিন। তাই তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পড়বে। কেননা তোমাদের দরুদ পাঠ আমার কাছে পেশ করা হয়।’ [সুনানে আবু দাউদ (১০৪৭)]

এ ছাড়া হাদিসে জুমার রাত ও দিনকে বিশেষভাবে নতুন কোনো ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তোমরা অন্য রাতগুলোর মধ্য থেকে জুমার রাতকে কিয়ামুল লাইলের জন্য খাস করে নিও না এবং অন্য দিনগুলোর মধ্য থেকে জুমার দিনকে রোজা রাখার জন্য খাস করে নিও না।’ [সহিহ মুসলিম (১১৪৪)]

আলেমদের মতে, জুমার দিন মূলত দোয়া, জিকির, গোসল, আগেভাগে মসজিদে যাওয়া এবং খুতবা শোনার মতো ইবাদতে ব্যস্ত থাকার দিন। তাই এদিনের সুন্নত ও আদব যথাযথভাবে পালন করলে একজন মুসলিম সহজেই এই দিনের পূর্ণ ফজিলত অর্জন করতে পারেন। [সূত্র: ইসলাম কিউ অ্যান্ড এ]

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত