ঢাকা, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মনিপুর স্কুল-কলেজে ৬৬২ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ
নিজস্ব প্রতিবেদক: মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)-এর তদন্ত প্রতিবেদনে। এতে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৬৬২ জন শিক্ষকের নিয়োগ বিধিবহির্ভূতভাবে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) ডিআইএ এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মো. শরিফুল ইসলাম ২০১১ সালে এনটিআরসিএ সনদ অর্জনের দাবি করলেও পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ২০১২ সালের ৪ মার্চ। অথচ তিনি ২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ফলে ফল প্রকাশের আগেই তার নিয়োগ হওয়ায় সেটিকে অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নুসরাত ইয়াসমিন রিয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ তিনি সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২০১৫ সালের পর এনটিআরসিএ সনদ বাধ্যতামূলক থাকলেও তার কাছে এ সনদ ছিল না। এছাড়া নিয়োগ কমিটিতে মাউশির ডিজি প্রতিনিধি না থাকা, নিয়োগ রেজ্যুলেশন, পরীক্ষার নম্বরপত্র ও যোগদান সংক্রান্ত নথি না থাকায় তার নিয়োগও বিধিসম্মত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছয়টি ক্যাম্পাসে ১৪টি শিফট চালু থাকলেও এর মধ্যে চারটি শিফটের অনুমোদন রয়েছে, বাকি ১০টির অনুমোদন নেই। ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিয়োগে কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, লিখিত পরীক্ষাও হয়নি এবং ডিজির প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন না। শুধুমাত্র গভর্নিং বডির ২১তম সভায় এসব নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বিভিন্ন শাখা ও ক্যাম্পাস মিলিয়ে মূল বালক প্রভাতী শাখায় ৬৭ জন, দিবা শাখায় ৬৫ জন, মূল বালিকা প্রভাতী শাখায় ৭৫ জন, দিবা শাখায় ৬১ জন, ব্রাঞ্চ-১ প্রভাতীতে ৬৩ জন ও দিবায় ৬১ জন, ব্রাঞ্চ-২ প্রভাতীতে ৩২ জন ও দিবায় ৩১ জন, ব্রাঞ্চ-৩ প্রভাতীতে ৫৬ জন ও দিবায় ৫৩ জন, কলেজ প্রভাতীতে ২৪ জন ও দিবায় ২৬ জন, ইংলিশ ভার্সন প্রভাতীতে ২৫ জন এবং দিবায় ২৪ জনসহ মোট ৬৬২ জন শিক্ষকের নিয়োগ বিধিবহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন আইন, ২০০৫ অনুযায়ী ২০০৫ সালের ২০ মার্চের পর এনটিআরসিএ সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের যোগ্য নন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক এই সনদ ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছেন।
ডিআইএ পরিচালক অধ্যাপক এম. এম সহিদুল ইসলাম বলেন, “মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় গ্রহণ করবে।”
এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “আমি এই মুহূর্তে দেশের বাইরে আছি। দেশে ফিরে তদন্ত প্রতিবেদন দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ম্যাচ: সরাসরি দেখা যাবে এখানে LIVE
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনো ফুটবল ম্যাচ, দেখুন একাদশ-দেখার উপায়
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোর ম্যাচটি শেষ-দেখুন ফলাফল
- সাফ নারী ফাইনাল: বাংলাদেশ বনাম ভারত, ৪ গোলে শেষ ম্যাচ, দেখুন ফলাফল
- ঢাবি অ্যালামনাই ইউকে শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
- ঢাবি শিক্ষককে বিয়ে করলেন দীপ্তি চৌধুরী
- বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তানের ফুটবল ম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন
- বাংলাদেশ বনাম সান মারিনোম্যাচ: এক ক্লিকে সরাসরি দেখুন এখানে
- আজ বাংলাদেশ বনাম আফগানিস্তান ম্যাচ: সরাসরি দেখবেন যেভাবে
- বাংলাদেশে যেসব চ্যানেলে দেখা যাবে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬
- ৪৯তম বিশেষ বিসিএস উত্তীর্ণদের ফের ভেরিফিকেশন হতে পারে
- নারীদের যৌন আগ্রহ বাড়ে, পুরুষদের সমস্যা বৃদ্ধি পায়: গবেষণা
- ডিএসইতে রেকর্ড উত্থান, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা
- ইউরোপে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ কে-যেভাবে দেখবেন সরাসরি
- ৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের নতুন সময়সূচি, বাড়ছে চলাচলের সময়