ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘অসচেতনতার কারণে শিশুরা বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে’

২০২৬ মে ১৭ ১৯:১৬:৪৫

‘অসচেতনতার কারণে শিশুরা বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চলমান হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অপুষ্টি, মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া এবং অসচেতনতার কারণে শিশুরা বেশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, আর হামের জটিলতায় আক্রান্ত অনেক শিশুই পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে।

রোববার (১৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে জানানো হয়, শিশুদের পুষ্টিহীনতা ও মাতৃদুগ্ধের অভাব সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগে ধারণা ছিল ছয় থেকে নয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশু মায়ের দুধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পায়, কিন্তু এখন সেই বয়সের শিশুরাও হাম আক্রান্ত হচ্ছে। অপুষ্টি ও বুকের দুধ না পাওয়াই এর বড় কারণ। অনেক মা নিজেও অপুষ্টিতে ভুগছেন, ফলে শিশুদের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না। অনেক নবজাতক শালদুধও পাচ্ছে না।

হামের পরবর্তী জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ পরে নিউমোনিয়ায় ভুগছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি ইনফেকশনে মৃত্যুও হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২০ সালের পর হামের টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। এক পর্যায়ে টিকাও স্বল্প ছিল, পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে টিকা সংগ্রহ করা হয়।

সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি জানান, ৪ এপ্রিল ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরে চার সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশে বিস্তৃত করা হয়। বর্তমানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা না পাওয়া শিশুদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, হামের প্রাদুর্ভাব ধীরে ধীরে কমছে এবং গতকাল প্রথমবারের মতো হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং প্রতি শনিবার দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব না দিলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে মাতৃদুগ্ধ, পুষ্টিকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা, আইসোলেশন ও সময়মতো টিকাদানের ওপর জোর দেন তিনি।

সেমিনারে চিকিৎসকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র স্বাস্থ্যখাতে টেন্ডার, নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তার করছে। স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ড্যাবের গবেষণা সম্পাদক ডা. মো. সায়েম ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে এবং হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক হামের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মো. আব্দুস সালাম এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ এপ্রিল)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ এপ্রিল)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে ফের কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নতুন করে দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে প্রতি... বিস্তারিত