ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

আতঙ্কের নতুন নাম ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’: বিশ্বজুড়ে বড় মহামারির আশঙ্কা

২০২৬ মে ১২ ১০:০৬:৩৬

আতঙ্কের নতুন নাম ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’: বিশ্বজুড়ে বড় মহামারির আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘এ’ এবং ‘বি’ ভাইরাসের দাপট চললেও এখন নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই গোত্রেরই আরেক সদস্য ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি’। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আন্তর্জাতিক গবেষকরা এই ভাইরাসটি নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছেন। সাধারণ সর্দি-কাশির ভাইরাসগুলোর তুলনায় এটি অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়ায় বেঁচে থাকতে সক্ষম হওয়ায় একে ভবিষ্যতের বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি মূলত গবাদি পশুর শরীর থেকে আসা একটি পরিবর্তিত ভাইরাস। শুরুতে এটি কেবল গবাদি পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে এটি মানুষের শরীরেও অনুপ্রবেশ করেছে। বিশেষ করে যারা পশুপালনের সাথে যুক্ত, তাদের শরীরে এই ভাইরাসের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। অনেকটা করোনাভাইরাসের মতোই এটি নিঃশ্বাসের মাধ্যমে মানবশরীরে প্রবেশ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখে।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও জার্মানির ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষকরা বলছেন, এই ভাইরাসটি উচ্চ তাপমাত্রাতেও টিকে থাকতে পারে। এটি মানবশরীরে থাকা ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন ডি’ নামক একটি প্রোটিনকে ব্যবহার করে নিজের বংশবিস্তার ঘটায়। এই প্রোটিনটি মূলত লিভারে তৈরি হয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ফুসফুস ও কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াকে আক্রমণ করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং সুস্থ কোষগুলো মারা যেতে শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে এর লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু বা সর্দি-জ্বরের মতোই মনে হয়। তবে এটি শরীরের ভেতর নিঃশব্দে লিভার ও ফুসফুসের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এখনো এই ভাইরাসটি সম্পর্কে অনেক তথ্য অজানা থাকলেও, এর বিবর্তন ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আগাম প্রস্তুতি না থাকলে এই ভাইরাসটি ভবিষ্যতে বড় কোনো বিশ্বজনীন সংকটের কারণ হতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত