ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ঋণ জটিলতা ও লোকসানের পাহাড়, তবুও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারদর
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির প্রায় ৩২ কোটি টাকারও বেশি ঋণ পরিশোধ না করায় কোম্পানিটি এখন আইনি জটিলতায় জর্জরিত। একদিকে ব্যবসায়িক লোকসান, অন্যদিকে পাওনাদারদের লিগ্যাল নোটিশ—সব মিলিয়ে চরম সংকটে থাকলেও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। এমনকি এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তেও কোনো সহযোগিতা করছে না কর্তৃপক্ষ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একমি পেস্টিসাইডসের কাছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের ২৬ কোটি ৮ লাখ টাকার লিজ ফাইন্যান্স পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও এই অর্থ পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি। পাওনা আদায়ের লক্ষে এমটিবি ও ন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পৃথক লিগ্যাল নোটিশ দিলেও কোম্পানিটি তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। নিরীক্ষকদের মতে, সময়মতো পাওনা পরিশোধ না করায় কোম্পানিটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি পরিণতির শিকার হতে পারে।
তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি তাদের প্রসপেক্টাসে টানা ৫ বছর মুনাফা বৃদ্ধির চিত্র দেখালেও শেয়ারবাজারে আসার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফা কমে দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিক্রি ২৪ শতাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মুনাফায় ধস নামে ৩১ শতাংশ। পতনের এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা লোকসান গুনে কোম্পানিটি। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরেও এই লোকসানি ধারা অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবসায়িক মন্দা এবং ঋণের বোঝা থাকা সত্ত্বেও গত দেড় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গত ১ মার্চ শেয়ারটির দাম যেখানে ১৬ টাকা ছিল, ১২ এপ্রিল লেনদেন শেষে তা দাঁড়ায় ২৬.৬০ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। এই অস্বাভাবিক উত্থানের কারণ জানতে চেয়ে গত ৮ এপ্রিল ডিএসই কর্তৃপক্ষ কোম্পানিকে চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সদুত্তর দেয়নি একমি পেস্টিসাইডস কর্তৃপক্ষ।
২০২১ সালে শেয়ারবাজারে আসা ১৩৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিতে সাধারণ ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮.২০ শতাংশ। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া শেয়ারের এই আকাশচুম্বী দাম নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)