ঢাকা, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২
ঋণ জটিলতা ও লোকসানের পাহাড়, তবুও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ারদর
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি সংকটের মুখে পড়েছে। ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানির প্রায় ৩২ কোটি টাকারও বেশি ঋণ পরিশোধ না করায় কোম্পানিটি এখন আইনি জটিলতায় জর্জরিত। একদিকে ব্যবসায়িক লোকসান, অন্যদিকে পাওনাদারদের লিগ্যাল নোটিশ—সব মিলিয়ে চরম সংকটে থাকলেও রহস্যজনকভাবে বাড়ছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। এমনকি এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তদন্তেও কোনো সহযোগিতা করছে না কর্তৃপক্ষ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একমি পেস্টিসাইডসের কাছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ন্যাশনাল ফাইন্যান্সের ২৬ কোটি ৮ লাখ টাকার লিজ ফাইন্যান্স পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও এই অর্থ পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি। পাওনা আদায়ের লক্ষে এমটিবি ও ন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্তৃপক্ষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পৃথক লিগ্যাল নোটিশ দিলেও কোম্পানিটি তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। নিরীক্ষকদের মতে, সময়মতো পাওনা পরিশোধ না করায় কোম্পানিটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি পরিণতির শিকার হতে পারে।
তালিকাভুক্তির আগে কোম্পানিটি তাদের প্রসপেক্টাসে টানা ৫ বছর মুনাফা বৃদ্ধির চিত্র দেখালেও শেয়ারবাজারে আসার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফা কমে দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিক্রি ২৪ শতাংশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মুনাফায় ধস নামে ৩১ শতাংশ। পতনের এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা লোকসান গুনে কোম্পানিটি। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ আরও বেড়ে ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরেও এই লোকসানি ধারা অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবসায়িক মন্দা এবং ঋণের বোঝা থাকা সত্ত্বেও গত দেড় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গত ১ মার্চ শেয়ারটির দাম যেখানে ১৬ টাকা ছিল, ১২ এপ্রিল লেনদেন শেষে তা দাঁড়ায় ২৬.৬০ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র কয়েক সপ্তাহে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। এই অস্বাভাবিক উত্থানের কারণ জানতে চেয়ে গত ৮ এপ্রিল ডিএসই কর্তৃপক্ষ কোম্পানিকে চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সদুত্তর দেয়নি একমি পেস্টিসাইডস কর্তৃপক্ষ।
২০২১ সালে শেয়ারবাজারে আসা ১৩৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানিতে সাধারণ ও অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮.২০ শতাংশ। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া শেয়ারের এই আকাশচুম্বী দাম নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নির্দেশনা জারি
- গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি ফল প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ এপ্রিল)
- টানা ৫ দিনের বড় ছুটিতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ
- ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টের পেল বাংলাদেশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ এপ্রিল)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৮ এপ্রিল)
- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ব্রাজিল
- অনলাইন ক্লাস হতে পারে যেসব স্কুল-কলেজে
- রবি আজিয়াটার বিরুদ্ধে বিএসইসির আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু
- সংসদে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন
- দেশে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন
- সংসদ গ্যালারিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ১৫০ আসন বরাদ্দ
- ঢাবিতে ই-মেইল ভেরিফিকেশন প্রশিক্ষণ মঙ্গলবার
- ফের বাড়ছে স্বর্ণের দাম