ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ৩২ তলা ভবনের গল্পের আড়ালে 'প্লেসমেন্ট জালিয়াতি'

২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১১:৩৫:২৬

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ৩২ তলা ভবনের গল্পের আড়ালে 'প্লেসমেন্ট জালিয়াতি'

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের একটি উচ্চাভিলাষী ঘোষণা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি ৩২ তলা ভবন নির্মাণের ভুয়া মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করে শেয়ারের দাম বাড়িয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। মূলত প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের সুবিধা দিতেই এমন চতুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির ৯৯৯তম সভায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। কমিশন জানায়, আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ এখনও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেনি কোম্পানিটি। অথচ কোনো ধরনের প্রকল্প মূল্যায়ন, রাজউকের অনুমোদন বা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই তড়িঘড়ি করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ৩২ তলা ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেয় তারা। কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ শেয়ার উচ্চমূল্যে বিক্রির পথ তৈরি করতেই এই 'কাগুজে' পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল।

বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় কঠোর অবস্থানে গিয়ে বিএসইসি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বিশেষ লক-ইন সময়সীমা আরোপ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান লক-ইন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর আরও ৩ বছর অথবা প্রস্তাবিত ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত (যেটি পরে ঘটবে) তারা শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন না।

বিএসইসির এই শক্ত পদক্ষেপে কারসাজিকারীরা ক্ষুব্ধ হলেও কৃত্রিমভাবে শেয়ারদর বাড়ানোর চেষ্টা থামেনি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শেয়ারটির দর ৬৮.২০ টাকা থাকলেও কমিশনের কড়াকড়িতে তা ৫৭ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলেও গত সোমবার (৬ এপ্রিল) রহস্যজনকভাবে শেয়ারটির দাম ৮৬.৬০ টাকায় উঠে এসেছে।

এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এক তদন্তে জানিয়েছিল, কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫০ টাকার উপরে ওঠার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সাধারণ বাজারে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ওষুধের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। কৃত্রিম মুনাফা দেখিয়ে কোম্পানিটি টিকে আছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২.০৯ টাকা মুনাফা দেখালেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য মাত্র ১০ শতাংশ বা ১ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত