ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

রেস ম্যানেজমেন্টকে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করল বিএসইসি

২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১০:০১:৪৯

রেস ম্যানেজমেন্টকে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করল বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত বন্ড এবং সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালন না করায় সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রেস ম্যানেজমেন্ট পিএলসি-কে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে থাকা ১২টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১১টিতেই অনিয়ম পাওয়ায় এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসির প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, নিয়ম ভেঙেছে এমন প্রতিটি ফান্ডের বিপরীতে ৫ লাখ টাকা করে মোট ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন; অন্যথায় আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

২০২১ সালের এক নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডকে তাদের পোর্টফোলিও’র অন্তত ৩ শতাংশ তালিকাভুক্ত বন্ডে এবং ১ শতাংশ সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে হয়। গত ৩০ জুন ২০২৩-এর মধ্যে এই শর্ত পূরণের সময়সীমা থাকলেও রেস ম্যানেজমেন্টের ১১টি ফান্ড নির্ধারিত সীমা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির এক আদেশে ট্রেজারি বন্ডে ১ শতাংশ বিনিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেসের ফান্ডগুলোতে কোনো ট্রেজারি বন্ড ছিল না বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এবং বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) সহ সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টিরা বারবার রেস ম্যানেজমেন্টকে বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে নির্দেশ দিলেও প্রতিষ্ঠানটি তা আমলে নেয়নি। এ বিষয়ে বিএসইসি ব্যাখ্যা চাইলেও রেস কোনো সদুত্তর দেয়নি বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জরিমানার প্রতিক্রিয়ায় রেস ম্যানেজমেন্ট ৬ এপ্রিল এক বিবৃতিতে এই শাস্তিকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, ফান্ডের বিও অ্যাকাউন্ট স্থগিত এবং ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ থাকায় তাদের পক্ষে নতুন করে শেয়ার বা বন্ড কেনাবেচা করা ‘অসম্ভব’ ছিল।

রেসের দাবি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বারবার তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখে একটি ‘ইমপসিবিলিটি অফ পারফরম্যান্স’ বা কাজ করতে না পারার পরিবেশ তৈরি করেছে। পরে সেই কাজ না করাকেই ‘অনিয়ম’ হিসেবে দেখিয়ে জরিমানা করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং স্বেচ্ছাচারী। এছাড়া ট্রাস্ট ডিড অনুযায়ী একটি খাতে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা থাকায় বন্ডে (যার অধিকাংশ ব্যাংক খাতের) বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হয়নি বলেও তারা যুক্তি দেখিয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত