ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

চুয়াডাঙ্গায় তাপপ্রবাহ তীব্র, জনজীবনে নেমেছে দুর্ভোগ

২০২৬ এপ্রিল ০২ ২২:০০:৪৮

চুয়াডাঙ্গায় তাপপ্রবাহ তীব্র, জনজীবনে নেমেছে দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ করেই তীব্র গরমের দাপটে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা। তাপমাত্রার দ্রুত ঊর্ধ্বগতির কারণে জেলায় শুরু হয়েছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ, যা গরমের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর আগের দিন বুধবার (১ এপ্রিল) একই সময়ে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রার এমন বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এই তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকেরা। বিশেষ করে জ্বালানি নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যা কষ্টকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তীব্র তাপদাহের প্রভাবে শহরের বিভিন্ন সড়কে পিচ গলে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। পৌরসভার সামনে এমন চিত্র চোখে পড়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম বলেন, তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এর মধ্যে প্রচণ্ড গরমে মাথা ঘোরে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

আরেক চালক সুমন হোসেন জানান, সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে শারীরিকভাবে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে দিনমজুররাও পড়েছেন চরম বিপাকে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, প্রচণ্ড গরমে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কিন্তু জীবিকার তাগিদে কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

হাবিবুর রহমান নামে আরেক শ্রমিক জানান, এই গরমে বারবার বিশ্রাম নিতে হয়, তবে বেশি বিশ্রাম নিলে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। বর্তমানে জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং এটি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত