ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

২০২৬ মার্চ ২৮ ২০:০৫:৫৮

শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার অভিযোগ মোদির বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে দেশটির অঙ্গনে। বিজেপির প্রবীণ নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর একাধিক মন্তব্য এবং তার সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ারের সমর্থন ঘিরে এ বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে সুব্রহ্মণ্যম স্বামী দাবি করেন, ভারতে কিছু নারী এমপিকে শারীরিক সম্পর্কের বিনিময়ে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে এমন কথাও হিন্দুত্ববাদী মহলে আলোচিত। তিনি ইঙ্গিত করেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং এস জয়শঙ্করের মন্ত্রী হওয়ার পেছনেও ‘বিশেষ পরিষেবা’র গুঞ্জন রয়েছে বলে শোনা যায়। এসব মন্তব্যকে ঘিরেই শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

স্বামীর বক্তব্য সামনে আসার পর হিন্দুত্ববাদী লেখিকা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার সামাজিক মাধ্যমে একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরে বিষয়টিকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসেন। একটি পোস্টে তিনি স্বামীর দাবির প্রতিধ্বনি করেন এবং বিষয়টি নিয়ে পরোক্ষভাবে সমর্থন জানান।

কিশওয়ার অতীতেও বিভিন্ন সময় হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ঠ বলেও বিবেচিত হতেন এবং তাকে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ফলে তার বর্তমান অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এছাড়া তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্মৃতি ইরানির প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তিনি মন্ত্রী হলেন—তা নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকলেও সেসব জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি। তার দাবি, ২০১৪ সালে বিদেশ সফরের সময়ও তিনি মোদির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্কিত আলোচনা শুনেছিলেন।

তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে বিভিন্ন মহলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বা মধুপূর্ণিমা কিশওয়ার কেউই তাদের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য হাজির করেননি।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। সর্বভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মন্তব্যগুলো প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও শাসকদল এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে। বিরোধী শিবির বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।

পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কি কেবল ব্যক্তিগত মন্তব্য, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে তা নিয়েও চলছে জল্পনা। একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ কতটা গ্রহণযোগ্য, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত