ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে হেরিটেজ ঘোষণা ও সংস্কারের উদ্যোগ পরিকল্পনা মন্ত্রীর

২০২৬ মার্চ ২০ ২০:১৩:০৫

জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে হেরিটেজ ঘোষণা ও সংস্কারের উদ্যোগ পরিকল্পনা মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও স্মৃতিবিজড়িত জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে দ্রুত ‘হেরিটেজ’ বা প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বাধীনতার ঘোষকের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থাপনাটিকে বিগত দীর্ঘ সময় ধরে চরম অবহেলা করা হয়েছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রামের পুরোনো সার্কিট হাউসে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জাদুঘরটির বর্তমান করুণ দশা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হেরিটেজ প্রপার্টি। অত্যন্ত পুরোনো ও দৃষ্টিনন্দন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে রুগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে। চোখে পড়ার মতো অনেকগুলো স্ট্রাকচারাল (কাঠামোগত) সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই সমস্যাগুলো আগে সমাধান না করলে রিনোভেশন বা সংস্কার করা সম্ভব নয়।”

প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই ভবনেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। সে কারণে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মানুষের আবেগ ও গাম্ভীর্য এই স্থাপনার সাথে মিশে আছে।”

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, গত কয়েক বছর এই জাদুঘরটির প্রতি কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “সত্যিকার অর্থে যারা সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। অবহেলার কারণে বর্তমানে জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের আসার মতো অবস্থায় নেই। অথচ এক সময় এখানে প্রচুর মানুষ আসতেন।”

আগামীর ইতিহাসের স্বার্থে এবং স্মৃতি অম্লান রাখতে এই জাদুঘরকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “দেশে খুব বেশি হেরিটেজ প্রপার্টি নেই। যেগুলো আছে, সেগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার। জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের জাতীয় গুরুত্ব রয়েছে, তাই ইমিডিয়েট সংস্কারের মাধ্যমে এই প্রপার্টিকে টিকিয়ে রাখতে হবে।”

তিনি আরও জানান, জাদুঘরের কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে তিনি দ্রুতই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সাথে কথা বলবেন। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে জাদুঘরের প্রতিটি সংগ্রহ ও বিষয়বস্তুকে সঠিকভাবে পুনঃস্থাপন করার ওপর তিনি জোর দেন। পরিদর্শনকালে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত