ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, বাড়ছে পেনশনসহ নানা সুবিধা

২০২৬ জুন ১৯ ১৯:০৪:২৩

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, বাড়ছে পেনশনসহ নানা সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে ২০১৫ সালে পেনশন ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে সরকার। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, যেখানে পেনশনের হার বৃদ্ধি, চাকরিকালের শর্ত শিথিল, পারিবারিক পেনশনের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ছুটি নগদায়নের সুযোগ বাড়ানোসহ নানা সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ও হার বৃদ্ধি

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়।

এর ফলে দীর্ঘ সময় চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। পাশাপাশি ৫ বছর থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়। এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়।

তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধা সাধারণত কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেমন— চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা ঘোষণা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা।

অবসরভোগীদের জন্য পেনশন বৃদ্ধি

২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশনও বাড়ানো হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আনুতোষিক ও মৃত্যুজনিত সুবিধা

চাকরিকালের নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া কোনো কর্মচারী চাকরির ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে চাকরির প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়ার বিধান রাখা হয়।

পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল

পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থায়ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ছুটি নগদায়নে বাড়তি সুবিধা

পেনশন সংস্কারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ছুটি নগদায়নের সুযোগ বৃদ্ধি। আগে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা গেলেও নতুন ব্যবস্থায় তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় সরকারি কর্মচারীরা আগের তুলনায় বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ লাভ করেন।

২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই প্রজ্ঞাপন কার্যকর ধরা হয়। একই সঙ্গে ওই সময় যারা অবসর-পূর্ব ছুটিতে (পিআরএল) ছিলেন, তারাও নতুন সুবিধাগুলোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৯ জুন)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৯ জুন)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের প্রতি... বিস্তারিত