ঢাকা, সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলাদেশ-কোরিয়া চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষ্য, এটি শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক জোট গঠনের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সম্মানে আয়োজিত এক নৈশভোজে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোহাম্মদ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার অভাবনীয় অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করে দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া অল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের জন্য দেশটির এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে তা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, উদ্ভাবন এবং যৌথ সমৃদ্ধির দৃঢ় অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। এ প্রেক্ষাপটে সিইপিএ চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করবে।
এ সময় বাংলাদেশকে নিজের ‘দ্বিতীয় শহর’ হিসেবে উল্লেখ করে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্পভিত্তি এবং বৃহৎ বাজার দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।
চট্টগ্রামে কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত এই চুক্তি আগামী দুই দশকে দুই দেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য আইনি কাঠামো গড়ে উঠবে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ী মহলকে চুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ-কোরিয়া সিইপিএ আলোচনায় সংশ্লিষ্ট উভয় দেশের কর্মকর্তা, আলোচক, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং অংশীজনদের নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অবশিষ্ট আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অদূর ভবিষ্যতে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ জুলাই)
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- আজই নিষিদ্ধ হতে পারে ঢাবির নীল দল
- বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ, মিলবে দৈনিক ২০০ টাকা ভাতা
- ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
- ঢাবির সূর্যসেন হলে সমকামিতার অভিযোগে দুইজন আটক
- বিকাশে মিলবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ভাতা
- জুলাই আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে: ঢাবি প্রো-ভিসি