ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২

উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনে কিম জং উনের ভাগ্য নির্ধারণ, জয় না ধাক্কা?

২০২৬ মার্চ ১৯ ১৯:৫০:২৩

উত্তর কোরিয়ার নির্বাচনে কিম জং উনের ভাগ্য নির্ধারণ, জয় না ধাক্কা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বরাবরের মতোই বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ‘ওয়ার্কার্স পার্টি’। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে কিম জং উনের দল ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম দেশটিতে সরকারি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট পড়ার কথা স্বীকার করেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

গত রোববার (১৫ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার আইনসভা ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’-র ৬৮৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কেসিএনএ-র তথ্যমতে, দেশজুড়ে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় শতভাগ অর্থাৎ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোটার কিমের দলের প্রার্থীদের পক্ষে রায় দিলেও শূন্য দশমিক ০৭ শতাংশ মানুষ প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়ার এই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকে না। ভোটাররা ব্যালটে থাকা অনুমোদিত প্রার্থীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ অথবা বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। দীর্ঘ ৬৬ বছর পর (১৯৫৭ সালের পর থেকে) এবারই প্রথম পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল যে, কিছু মানুষ বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বা প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ফলাফলকে জনগণের ‘অবিচল ঐক্য’ এবং কিম জং উনের শাসনের প্রতি ‘নিরঙ্কুশ সমর্থন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্বাচনকে সবসময়ই ‘লোক দেখানো’ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করে আসছে। তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ায় গোপন ব্যালটের সুযোগ না থাকায় এবং কড়া নজরদারির কারণে প্রকৃত জনমত প্রতিফলিত হওয়া অসম্ভব।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামান্য কিছু ‘না’ ভোটের কথা স্বীকার করা মূলত বহির্বিশ্বের কাছে নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রমাণের একটি নতুন কৌশল হতে পারে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত