ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের

২০২৬ মার্চ ০৬ ১৩:০৭:২৫

সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভের ডাক জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজিরবিহীন ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক দুই উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই দাবিতে আজ শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছে দলটি।

শুক্রবার সকালে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। রাজধানীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আজকের এই কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধভাবে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্ব।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে নির্বাচনী কারসাজির ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা। তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে এটা প্রকাশ করেছেন, যারা তার ভাষায়- নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি।’ তাহেরের দাবি, এই বক্তব্যের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে যে সুপরিকল্পিত ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে জামায়াতকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, প্রশাসনের ডিসি, এসপি, ইউএনও এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে একটি বিশেষ ছক অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিলেন এবং পুরো সরকার এতে লিপ্ত ছিল কি না, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করার দাবি জানান আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, রিজওয়ানা হাসানকে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে।

অন্যদিকে, সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে ‘লন্ডন ষড়যন্ত্রের হোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন জামায়াত নেতা তাহের। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে নিজেদের নিরপেক্ষ দাবি করলেও খলিলুর রহমান পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে সেই নীতি ভঙ্গ করেছেন। খলিলুর রহমান শুরু থেকেই একটি বিশেষ দলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন এবং এর পুরস্কার হিসেবেই তিনি মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুল করেছে, তারা জাতির কাছে ‘মীর জাফর’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিরোধীদলীয় হুইপ রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খানসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত