ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলাদেশে এলআর গ্লোবালের ব্যবসা বন্ধ করল বিএসইসি

২০২৬ মার্চ ০৩ ১৮:৩৩:১৭

বাংলাদেশে এলআর গ্লোবালের ব্যবসা বন্ধ করল বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিকিউরিটিজ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিয়োগ বাতিল করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা ছয়টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশে এলআর গ্লোবালের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, কমিশন এখন প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে বিএসইসির এক বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এলআর গ্লোবালের হাতছাড়া হওয়া ফান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে— ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

কমিশনের মতে, প্রতিষ্ঠানটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে ইউনিট হোল্ডারদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি করেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, এলআর গ্লোবাল যথাযথ আর্থিক বিশ্লেষণ ছাড়াই তাদের ব্যবস্থাপনায় থাকা ফান্ডগুলো থেকে কুয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড (সাবেক পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালারস) নামক একটি কোম্পানিতে প্রায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। নিয়ম ভেঙে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনে নেওয়া হয়, যার ফলশ্রুতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ছিল শেয়ারের দাম নিয়ে; কুয়েস্ট বিডিসির শেয়ার প্রতি ১০ টাকা ৬০ পয়সায় বিক্রির অনুমোদন থাকলেও এলআর গ্লোবাল তাদের ফান্ডের জন্য প্রতিটি শেয়ার ২৮৯ টাকা ৪৮ প্যসায় কিনেছে। অথচ একই সময়ে তাদের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান অনেক কম দামে একই কোম্পানির শেয়ার কিনেছে, যা স্পষ্টতই যোগসাজশ ও দুর্নীতির প্রমাণ দেয়।

বিএসইসি আরও জানিয়েছে, একক কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কোনো নির্দিষ্ট ফান্ড থেকে কেনার নিয়ম না থাকলেও এলআর গ্লোবাল তা অমান্য করেছে। এছাড়া ট্রাস্টি বা কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই কুয়েস্ট বিডিসিতে পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার পরিপন্থী।

২০২২ সাল থেকে কুয়েস্ট বিডিসিতে করা বিনিয়োগ থেকে কোনো মুনাফা আসেনি এবং বর্তমানে ওটিসি মার্কেটে লেনদেন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারগুলো বিক্রি করতেও পারছেন না।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে এলআর গ্লোবাল তাদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করেছে এবং অর্থপাচারের মতো অপরাধের সাথে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফান্ডের ট্রাস্টিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে এবং অডিট শেষে নতুন কোনো সম্পদ ব্যবস্থাপক নিয়োগ দিতে।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের অক্টোবরেই কুয়েস্ট বিডিসির সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং এলআর গ্লোবালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তাকে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত