ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

দিনে তিনবার মশার ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ ডিএনসিসির

২০২৬ মার্চ ০৩ ১২:১৪:৫১

দিনে তিনবার মশার ওষুধ ছিটানোর নির্দেশ ডিএনসিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে মশার অসহ্য উপদ্রব থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে এক নজিরবিহীন ও আক্রমণাত্মক ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এখন থেকে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তিন বেলা সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন ডিএনসিসির নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। মশার বিস্তার রুখতে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে নতুন কৌশল এবং ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের মাধ্যমে শহরজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এই নতুন কর্মপরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি দাপ্তরিক চিঠিতে মশক নিধনের এই নতুন সময়সূচি আজ থেকেই কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সকালে মশার লার্ভা ধ্বংস করার লক্ষে ব্যাপক আকারে ‘লার্ভিসাইডিং’ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর বিকাল ও সন্ধ্যার নিয়মিত ফগিংয়ের পাশাপাশি এখন থেকে অঞ্চলভেদে মশার সর্বোচ্চ সক্রিয়তার সময় বুঝে গভীর রাতেও ফগিং কার্যক্রম চালানো হবে। মূলত মশা যখন সবচেয়ে বেশি কামড়ায়, ঠিক সেই মুহূর্তেই রাসায়নিক আঘাত হানার মাধ্যমে এদের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করার এই ছক কষেছে ডিএনসিসি।

প্রশাসনিক এই আদেশে আরও জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও মশক নিধন কর্মীদের কোনো বিরতি থাকবে না। প্রতিটি জোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে গঠিত ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) শহরের অতি উপদ্রুত এলাকা বা হটস্পটগুলোতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করবে। এছাড়া নালা, নর্দমা, স্যুয়ারেজ লাইন ও বদ্ধ জলাশয়গুলোর একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে মশার প্রজনন উৎসগুলো স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার কাজও দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মশক নিয়ন্ত্রণকে তাঁর মেয়াদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র ওষুধ ছিটিয়ে এই সংকট সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়; নাগরিকদের সচেতনতাও এখানে অত্যন্ত জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তাঁরা নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ ও বারান্দা পরিষ্কার রাখেন এবং কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করেন। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত