ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?

২০২৬ মার্চ ০১ ১৮:৩৪:০২

বিক্রিতে ধস, অথচ শেয়ার দরে উল্লম্ফন: জি কিউ বলপেনের রহস্য কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা আট বছর ধরে লোকসান এবং বিক্রিতে চরম মন্দা থাকা সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন চমক দেখাচ্ছে জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গত বছরের জুন থেকে পরবর্তী আট মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ২০০ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে কোম্পানিটির বার্ষিক বিক্রির পরিমাণ মাত্র ২ কোটি টাকার আশেপাশে, সেখানে এর বাজার মূলধন এখন প্রায় ৪৭৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৩০ জুন এই কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল ১৬৯ টাকা ৬ পয়সা। মাত্র আট মাসের ব্যবধানে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তা বেড়ে ৫২৩ টাকা ৯ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এক সময়কার জনপ্রিয় ‘ইকোনো’ ব্র্যান্ডের এই কলম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তার ব্যবসার মৌলিক ভিত্তির তুলনায় অনেক বেশি দরে শেয়ারবাজারে লেনদেন করছে, যা বিনিয়োগ ঝুঁকির বিষয়েও প্রশ্ন তুলছে।

এক দশক আগেও কোম্পানিটির ব্যবসায়িক অবস্থা ছিল বেশ শক্তিশালী। ২০১৫ সালে এর বার্ষিক বিক্রি ছিল ২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। তবে এরপর থেকেই আধুনিক রিফিল কলম এবং বিদেশি ব্র্যান্ডের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ক্রমাগত বাজার হারাতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সাল থেকে টানা আট বছর ধরে কোম্পানিটি লোকসানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরে এর বিক্রি নেমে এসেছে মাত্র ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকায়। গত অর্থবছরে কোম্পানিটি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা নিট লোকসান গুনেছে।

ব্যবসার এই করুণ অবস্থার বিষয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কুমার সাহা জানিয়েছেন যে, কারখানার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ বা বিএমআরই কার্যক্রম চলার কারণে তাদের উৎপাদন বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়ায় বিক্রিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। তবে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম শেষ হলে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পুনরায় বাজারে নিজেদের অবস্থান ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। মূলত বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতার কাছেই তারা পণ্য সরবরাহ করছেন।

অবাক করার বিষয় হলো, গত আট বছর লোকসানে থাকলেও কোম্পানিটি নিয়মিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করে আসছে। শেয়ারহোল্ডারদের ধরে রাখতে বিভিন্ন সময় ২.৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ১২.৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিভিডেন্ড দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে তারা। ৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের এই কোম্পানির প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ারই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

২ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

২ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা পাচ্ছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত বাজেট সহায়তার বাইরে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার... বিস্তারিত