ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সদকায়ে জারিয়া: চিরস্থায়ী সওয়াবের পথ

২০২৬ মার্চ ০১ ১৭:৪৮:৩৬

সদকায়ে জারিয়া: চিরস্থায়ী সওয়াবের পথ

নিউজ ডেস্ক: মানুষের দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু নেক আমলের প্রতিদান হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী—এ শিক্ষা দেয় ইসলাম। এমন কিছু দান রয়েছে, যার সওয়াব মৃত্যুর পরও বন্ধ হয় না। স্থায়ী কল্যাণ বয়ে আনে—এ ধরনের দানই পরিচিত ‘সদকায়ে জারিয়া’ নামে। সামর্থ্য অনুযায়ী এ আমলে অংশ নিলে একজন মুসলমান নিজের আখিরাতের জন্য চিরস্থায়ী সওয়াবের ব্যবস্থা করতে পারেন।

সদকায়ে জারিয়া কী

‘সদকা’ অর্থ দান, আর ‘জারিয়া’ মানে প্রবাহমান বা চলমান। অর্থাৎ, এমন কল্যাণমূলক কাজ যার সুফল দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোগ করে এবং যার প্রতিদান অব্যাহত থাকে—সেটিই সদকায়ে জারিয়া। কোনো ব্যক্তি ইন্তেকালের পরও যত দিন তার করা দান থেকে মানুষ উপকৃত হবে, তত দিন তার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত হতে থাকবে।

মৃত্যুর পর যে আমল থামে না

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল অব্যাহত থাকে: সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)।

এই হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে, সদকায়ে জারিয়া এমন এক নেক কাজ, যার ফলাফল মৃত্যু দিয়েও থামে না।

সাধারণ সদকা ও সদকায়ে জারিয়ার পার্থক্য

অনেকেই মনে করেন, সব দানই সদকায়ে জারিয়া। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন।

সাধারণ সদকাঅভাবীকে খাবার দেওয়া, নগদ অর্থ সহায়তা করা—এসব সাধারণ সদকা। এর সওয়াব তাৎক্ষণিক এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী নয়।

সদকায়ে জারিয়াঅন্যদিকে, মসজিদ, এতিমখানা, মাদ্রাসা বা স্থায়ী কোনো কল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণ করে দেওয়া—এসব সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। যত দিন মানুষ উপকৃত হবে, তত দিন সওয়াব অব্যাহত থাকবে।

সদকায়ে জারিয়ার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ

নিজের বা মৃত স্বজনের নামে স্থায়ী সওয়াবের নিয়তে যেসব কাজ করা যায়—

১. মসজিদ নির্মাণে সহায়তামসজিদ তৈরি বা নির্মাণাধীন মসজিদে অর্থদান অন্যতম উত্তম সদকায়ে জারিয়া।

২. বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থানলকূপ, কূপ বা পানির ট্যাংক স্থাপন তৃষ্ণার্ত মানুষের স্থায়ী উপকার করে।

৩. উপকারী জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়াকুরআন মাজিদ, দ্বীনি বা উপকারী বই ছাপিয়ে বিতরণ করা দীর্ঘস্থায়ী সওয়াবের মাধ্যম।

৪. গাছ লাগানোফলদ বা বনজ বৃক্ষরোপণ করলে মানুষ ও প্রাণী উপকৃত হয়—এ সওয়াব চলমান থাকে।

৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাস্কুল বা মাদ্রাসা স্থাপন করে জ্ঞানচর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা।

৬. চিকিৎসাসেবায় অবদানহাসপাতাল নির্মাণ, অ্যাম্বুলেন্স বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দান করা।

৭. কবরস্থানের জন্য জমি দানদাফনকার্যে সহায়তা বা কবরস্থানের জমি প্রদান।

৮. রাস্তা বা বিশ্রামাগার নির্মাণমানুষের চলাচল বা মুসাফিরদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা।

৯. খাল বা পানির নহর খননচাষাবাদ বা জনসাধারণের পানির প্রয়োজন মেটাতে খাল খনন।

১০. রক্তদানমুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্ত দেওয়া—এটিও মহৎ সদকার অন্তর্ভুক্ত।

সদকা কবুল হওয়ার শর্ত

দান কবুল হওয়ার মূল শর্ত হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। লোক দেখানো বা প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দান করলে তা সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের কারণ হতে পারে। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টিই হওয়া উচিত একমাত্র লক্ষ্য।

ইসলাম আমাদের শেখায়—জীবন সীমিত, কিন্তু সওয়াবের ভাণ্ডার সীমাহীন হতে পারে। সদকায়ে জারিয়ার মাধ্যমে একজন মুসলমান মৃত্যুর পরও নেকির ধারায় যুক্ত থাকতে পারেন। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী স্থায়ী কল্যাণমূলক কাজে অংশ নেওয়াই হতে পারে আখিরাতের সর্বোত্তম প্রস্তুতি।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত