ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএসইসি নেতৃত্বে পরিবর্তনের আবহে ফিরছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৭:১৬:৪৭

বিএসইসি নেতৃত্বে পরিবর্তনের আবহে ফিরছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো তেজি ভাব বজায় রয়েছে, যার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে ব্যাংক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের জোরালো আগ্রহ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ১৩৪ পয়েন্ট বা ২.৪৬ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের ঘরে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির ইতিবাচক সংকেত বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে গত ছয় সপ্তাহে সূচকটি সর্বমোট ৫৮১ পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট মহলে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্বে সম্ভাব্য রদবদল। ডিএসইর পরিচালক মো. সাজেদুল ইসলামের মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নতুন এবং যোগ্য নেতৃত্ব আসার প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর আশাবাদের জন্ম দিয়েছে।

অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে বাজারে শৃঙ্খলা পুরোপুরি ফিরে আসেনি, তাই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া পরিবর্তনের ইঙ্গিত বাজারকে আরও শক্তিশালী করছে।

এদিকে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ী হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তার এই ‘বিজনেস-ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি বাজারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। যদি বড় করপোরেট ঋণগুলো ব্যাংকের ওপর চাপ না রেখে শেয়ারবাজারে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে ব্যাংক খাতের ঝুঁকি কমবে এবং পুঁজিবাজার অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।

সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে ব্যাংক খাতের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালায় শিথিলতার কারণে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক শেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন। গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৪ দিনই সূচক বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজারমূলধন ৩৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ব্লু-চিপ ডিএস৩০ সূচক ৭২ পয়েন্ট এবং শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়েছে।

খাতভিত্তিক পারফরম্যান্সে গত সপ্তাহে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং রবি আজিয়াটার দরবৃদ্ধি সূচককে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক একাই সূচকে ১৯ পয়েন্টের বেশি যোগ করেছে। লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, যার মোট লেনদেনমূল্য ছিল ২২৬ কোটি টাকা। এর পরেই ছিল অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক ও রবির অবস্থান।

তবে সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৫ হাজার ২৫০ কোটি টাকার চেয়ে ৩১ শতাংশ কম। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭৪টির দর বেড়েছে এবং ৮৩টির কমেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত ছিল, যেখানে সিএএসপিআই সূচক ২৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫৯৭ পয়েন্টে সপ্তাহ শেষ করেছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত