ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৪:৩৯:০০

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন বাংলাদেশের গগনচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের একযোগে দেশপ্রেম নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বের একার পক্ষে জনগণের ভাগ্যবদল সম্ভব নয়; বরং প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার সমন্বয়ই পারে জাতিকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রতি এই বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কর্মকর্তাদের এই সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সরকার তখনই ভালো করবে যখন আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন। আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরকেই কাজ করতে হবে।’ তিনি মনে করেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের এখন থেকে মাঠ পর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে।

নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রেখে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একটি ইশতেহার থাকে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’ বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়ন, নারী শিক্ষার প্রসার এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা চান তিনি।

সুশাসন ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন নিরাপদ বোধ করে। আমরা সকলে যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।’ একই সাথে দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে তিনি প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পরিধি ও নৈতিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তার বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জাতিকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থানে নিয়ে আসতে হলে সরকারি নিয়ম-নীতি মানার কোনো বিকল্প নেই।

এই উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামসহ আরও অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাগত বক্তব্য দেন এবং পরে কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী দপ্তরের সামগ্রিক কার্যপ্রণালী নিয়ে একটি বিশেষ উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত