ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির পরিচালক

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২৩:১৮:২৪

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এ সাময়িক বরখাস্ত থাকা পরিচালক আবু রায়হান মোহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহকে শেষ পর্যন্ত ‘বাধ্যতামূলক অবসরে’ পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশনের ৯৯১তম সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনকে বিভ্রান্ত করা, অগ্রিম অর্থের অপব্যবহার এবং কাজ সম্পাদন ছাড়াই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল উত্তোলন। এসব অভিযোগ তদন্তে যাচাই-বাছাই করা হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইট, বালু, রড ও সিমেন্ট কেনার কথা উল্লেখ করে ৯টি ভাউচার জমা দেওয়া হয়, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে ওই সময়ে কোনো ধরনের নির্মাণকাজই সম্পন্ন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর লিখিত ব্যাখ্যায় তিনি দাবি করেন, নকশা অনুযায়ী পাঁচতলা ভবনের ভিত্তি ও প্রথম তলার কাজ শেষ হয়েছে। তবে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি কমিশনের পরিদর্শন দল নির্ধারিত স্থানে গিয়ে কোনো ভবনের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি, যা তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভ্যন্তরীণ অডিটে আরও জানা যায়, গৃহনির্মাণ ঋণের অতিরিক্ত হিসেবে নেওয়া ৬০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা সুদ ফেরত দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি ভবন নির্মাণ বাবদ গ্রহণ করা অতিরিক্ত ২৫ লাখ টাকাও তিনি পরিশোধ করেননি।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কমিশনের ৯৭২তম সভায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে একজন নির্বাহী পরিচালককে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৭ নভেম্বর জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

কমিশন সূত্র জানায়, ৯ ডিসেম্বর বড় ধরনের শাস্তির বিষয়ে তাকে দ্বিতীয়বার শোকজ করা হয়, কারণ তার আগের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। তবে ২৯ ডিসেম্বর জমা দেওয়া জবাবেও তিনি অভিযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেননি।

পরবর্তীতে ৯৯১তম সভায় বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যদিও বিধি অনুযায়ী সরাসরি বরখাস্ত বা অপসারণের সুযোগ ছিল, মানবিক বিবেচনা ও আর্থিক দিক পর্যালোচনা করে তাকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-এর ‘কমিশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১’ অনুসারেই এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত