ঢাকা, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ছয় মিউচ্যুয়াল ফান্ডে মানিলন্ডারিং অভিযোগ, দুদক-এনবিআরে বিএসইসির চিঠি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৩:৫৯:০৮

ছয় মিউচ্যুয়াল ফান্ডে মানিলন্ডারিং অভিযোগ, দুদক-এনবিআরে বিএসইসির চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছয়টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের আর্থিক প্রতিবেদনে নিয়মবহির্ভূতভাবে অগ্রিম আয়কর দেখিয়ে প্রায় ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসি-র বিরুদ্ধে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনা করে এ অনিয়ম শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে অসংগতি পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুর্নীতি দমন কমিশন) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) পৃথকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। বিএসইসির ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন থেকে সম্প্রতি সংস্থা দুটির চেয়ারম্যান বরাবর এ পত্র পাঠানো হয়।

রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মোট ১২টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করে। এর মধ্যে ছয়টি ফান্ডের আর্থিক বিবরণীতে অগ্রিম আয়কর প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ফান্ডগুলো হলো—আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফাস্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফার্স্ট বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আয়কর আইন-২০২৩ অনুযায়ী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত। তা সত্ত্বেও আলোচ্য ফান্ডগুলোর নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে প্রায় ৯.৬৮ কোটি টাকা অগ্রিম আয়কর দেখানো হয়েছে। নিরীক্ষক মতামতে এ অসংগতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১০ নভেম্বর ২০১১ সালের এসআরও নং ৩৩৩-আইন/আয়কর/২০১১ দ্বারা মিউচ্যুয়াল ফান্ডের আয় করমুক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে ১০ আগস্ট ২০১২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বৃহৎ করদাতা ইউনিট, ঢাকা বরাবর জারি করা চিঠিতে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করে। সর্বশেষ আয়কর আইন, ২০২৩ ও আয়কর পরিপত্র ২০২৩-২০২৪ অনুযায়ীও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সব ধরনের আয় করমুক্ত। অর্থাৎ ২০১১-২০১২ অর্থবছর থেকে (২০২২-২০২৩ ব্যতীত) ফান্ডের আয় করমুক্ত ছিল।

কমিশন জানায়, এ বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে চালান, ব্যাংক সার্টিফিকেট বা ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ প্রাসঙ্গিক প্রমাণ চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। বরং বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক উৎসে কাটা প্রায় ২৮ লাখ ১৮ হাজার ফেরতের জন্য ব্যাংকগুলোতে আবেদন করার কপি জমা দেওয়া হলেও আর্থিক প্রতিবেদনে ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর পরিশোধ দেখানো হয়েছে।

বিএসইসির মতে, এভাবে অগ্রিম আয়কর প্রদর্শন করে একদিকে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে, অন্যদিকে মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। তাই বিষয়টি গভীর তদন্তসাপেক্ষ। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দুদক ও এনবিআরকে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন।

এ বিষয়ে বিএসইসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, করমুক্ত আয়ের বিপরীতে বিপুল অঙ্কের অগ্রিম আয়কর দেখানো অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। যথাযথ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি তদন্তে পাঠানো হয়েছে। শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি জানান।

এএসএম/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত