ঢাকা, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস বি-স্ফো-রণ: ঢাকায় আনা হচ্ছে দগ্ধদের

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৭:০৩:১৭

চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস বি-স্ফো-রণ: ঢাকায় আনা হচ্ছে দগ্ধদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের নীরবতা ভেঙে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চট্টগ্রামের হালিশহর। একটি আবাসিক ভবনের বাসায় জমে থাকা গ্যাস থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৫টার দিকে নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকের ছয়তলা ‘হালিমা মঞ্জিল’ ভবনের তৃতীয় তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফ্ল্যাটজুড়ে।

দগ্ধদের প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ জানান, আহতদের সবার শ্বাসতন্ত্রে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তাদের অবস্থাকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসা সুবিধার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণে তিনজনের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। একজনের ৮০ শতাংশ এবং দুইজনের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তারা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। এছাড়া দুই শিশুর ২৫ শতাংশ এবং আরেক শিশুর ২০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশের বেশি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশের বেশি বার্ন হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। যে কোনো সময় তাদের আইসিইউ প্রয়োজন হতে পারে।

দগ্ধদের স্বজনরা জানান, তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে আইসিইউ সুবিধা সীমিত থাকায় দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে রাজধানীর পথে রওনা হয়েছেন তারা।

আহতরা হলেন—শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪), পাখি আক্তার (৩৫) ও রানী আক্তার (৪০)।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দারাই দগ্ধদের উদ্ধার করেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের বিভিন্ন তলার একাধিক ফ্ল্যাটের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লিফটও ছিঁড়ে পড়ে যায়।

বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না; সরাসরি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লাইন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে ছিল। পরে কোনো স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে এসে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত