ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২

১৪ বোতল মদসহ বিমানবন্দরে আটক মেহজাবীন, মামলা ছাড়াই মুক্তি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ০০:১৪:০৪

১৪ বোতল মদসহ বিমানবন্দরে আটক মেহজাবীন, মামলা ছাড়াই মুক্তি

বিনোদন ডেস্ক: বিদেশের মাটি থেকে ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল অবৈধ মদসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছিলেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী নির্মাতা আদনান আল রাজীব ও চলচ্চিত্র পরিচালক শঙ্খ দাসগুপ্ত। তবে আইন অনুযায়ী নিয়মিত মামলা হওয়ার কথা থাকলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়েই তাঁদের ছেড়ে দেয়। সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ‘ইউএস-বাংলা’ এয়ারলাইন্সের বিএস-২১৮ ফ্লাইটে ঢাকা ফেরেন মেহজাবীন, আদনান ও শঙ্খ দাসগুপ্ত। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের তল্লাশিতে তাঁদের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল অ্যালকোহল উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য অ্যালকোহল বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সাধারণত এ ধরণের ঘটনায় যাত্রীকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর এবং মামলা দায়ের করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মেহজাবীনদের আটকের পর কাস্টমস কর্মকর্তা মো. মোতাকাব্বির আলী একটি জব্দ তালিকা (রশিদ নং-ডিসিএইচ-ডিই-২০২৫০৮১৫২০) তৈরি করেছিলেন, যেখানে ‘আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য’ বহনের মাধ্যমে ব্যাগেজ বিধিমালা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অদৃশ্য ইশারায় তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। এমনকি মেহজাবীনের কাছ থেকে কোনো লিখিত মুচলেকাই নেওয়া হয়নি।

তৎকালীন এয়ারপোর্ট রেভিনিউ অফিসার মো. মোতাকাব্বির আলী (বর্তমানে সিলেটে কর্মরত) এ বিষয়ে বলেন, “বেআইনি কিছু পেলে আমরা সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেই। মেহজাবীনের বেলায়ও সেটিই করেছিলাম। কিন্তু পরে কেন মামলা হয়নি বা কীভাবে তাঁরা ছাড়া পেলেন, তা আমার জানা নেই।”

ঘটনার সময় মেহজাবীনদের প্রটোকল দিতে আসা দুজন অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যের কাছ থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মুচলেকা নিয়েছিল। ওই মুচলেকায় তাঁরা উল্লেখ করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তাঁরা প্রটোকল দিতে এসেছিলেন এবং গ্রিন চ্যানেলে লিকার জব্দের ঘটনার সাথে তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা নেই।

পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মেহজাবীন চৌধুরী, আদনান আল রাজীব ও শঙ্খ দাসগুপ্তের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা কোনো সাড়া দেননি। সংবাদমাধ্যম এ বিষয়ে অনুসন্ধান করছে জানতে পেরে তাঁরা এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে একটি অনুষ্ঠানে মেহজাবীনকে সরাসরি এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি একে ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ অভিহিত করে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না হলেও সেলিব্রিটি ইমেজ ব্যবহার করে এমন গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত