ঢাকা, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক একক ইস্যুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না: মির্জা ফখরুল

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ২০:৪৫:০৬

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক একক ইস্যুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোনো একক ইস্যুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার গুলশানে দলের কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, দেশের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখা হবে।

ফখরুল জানান, আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। জনগণ তার বিচার চাচ্ছে। ভারতের উচিত তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা। তবে যদি তা না হয়, তাতেও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কসহ অন্যান্য সহযোগিতা বন্ধ হবে না। আমরা আরও উন্নত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ককে কোনো এক ইস্যুর সঙ্গে বাঁধা দেওয়া উচিত নয়।

গত ১৭ মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রত্যর্পণ চেয়েছে, কিন্তু নয়াদিল্লি এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এই প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কিছু জটিলতা থাকলেও তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। আমাদের ক্ষেত্রেও একক ইস্যুতে আটকে থাকা যায় না।

ফখরুল গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, পানি বণ্টন এবং সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না, আমাদের কথোপকথন প্রয়োজন। যারা যুদ্ধের কথাবার্তা বলে, তারা উন্মাদের মতো কথা বলছে।

তিনি বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি দুই দেশের জন্য নতুন কাজের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতে মিলিতভাবে কাজ করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। ফখরুল বলেন, ভারতের কারিগরি শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে। আমাদের বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ আছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা দরকার, যাতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে তারা কর্মসংস্থান পায়।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত