ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি’ প্রভাবিত নির্বাচন বাংলাদেশে: রয়টার্স

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ২৩:৩৫:৪৭

বিশ্বের প্রথম ‘জেন-জি’ প্রভাবিত নির্বাচন বাংলাদেশে: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এই নির্বাচন হবে বিশ্বের প্রথম নির্বাচন যা মূলত ‘জেনারেশন জেড’ বা জেন-জি (তরুণ প্রজন্ম) দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। ২০০৯ সালের পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশটিতে প্রথম কোনো প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলের গত ১৫ বছরে নির্বাচনগুলো ছিল একতরফা, যেখানে বিরোধীদলের অস্তিত্ব ছিল নগণ্য। তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পুরো দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই তরুণ প্রজন্ম, যারা এই নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দলটির প্রধান তারেক রহমান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সরকার গঠনের বিষয়ে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। অন্যদিকে, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকা তরুণদের নতুন দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’ এককভাবে জনসমর্থন ভোটে রূপান্তর করতে না পেরে জামায়াতের সঙ্গেই নির্বাচনি সমঝোতা করেছে।

নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং স্থবির বিনিয়োগ। গত ছয় মাসের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বিশেষ করে পোশাক খাত মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোটারদের প্রধান চাহিদা হলো দুর্নীতি দমন এবং দ্রুত অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসি মনে করেন, ভোটের ফলাফল শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের ভূমিকাও নির্ধারণ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন সরকার পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকতে পারে, অন্যদিকে বিএনপি ভারতের সঙ্গে তুলনামূলক বেশি সংযুক্ত থাকতে পারে।

২১ বছর বয়সী প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিবের মতে, “মানুষ গত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তখন ভোটারদের কোনো কথা বলার সুযোগ ছিল না। আমরা আশা করছি, নতুন সরকার যেই আসুক না কেন, তারা মানুষের বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে।”

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত