ঢাকা, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে: তারেক রহমান

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৮ ১৯:১৮:১৪

এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে বাস্তবসম্মত অঙ্গীকার নিয়েই নির্বাচনে এগোতে চায় বিএনপি। তিনি বলেন, এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের পক্ষে এই পথসভার আয়োজন করা হয়। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।

এর আগে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭–এর ইসিবি চত্বর থেকে প্রচারণা শুরু করে পল্লবীতে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হকের সমর্থনেও বক্তব্য দেন তারেক রহমান। পরে তিনি ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী সায়েদুল ইসলাম তুলির পক্ষে শ্যামলী, ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠ ও বাড্ডা সাতারকুল সানভ্যালিতে আরও কয়েকটি পথসভায় যোগ দেওয়ার কথা জানান।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন অঙ্গীকারই করছে যা বাস্তবে বাস্তবায়নযোগ্য। মানুষের নাগালের বাইরে বা অসম্ভব কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়ার নীতি তাদের নয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে তিনি শুধু ভোটগ্রহণের দিন হিসেবে নয়, বরং দেশ পুনর্গঠন ও মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, এই নির্বাচন হতে হবে নতুনভাবে দেশ গড়ার নির্বাচন।

দলের নির্বাচনী পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঘোষিত ইশতেহারে নারী, শিক্ষার্থী, বেকার যুবসমাজ ও স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে এবং কীভাবে সেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যায়—সে বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশ নারী; তাদের শিক্ষা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পরিবারভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থার আওতায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা দেশে-বিদেশে কাজের সুযোগ পাবে কিংবা উদ্যোক্তা হতে পারবে।

বিদেশগামী শ্রমিকদের সহায়তায় স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যাতে চাকরির জন্য কাউকে জমি বিক্রি করতে না হয়।

কৃষিখাতের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, কৃষক স্বচ্ছল থাকলে দেশও এগোবে। এজন্য কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু এবং নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি জানান, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা-১৫ এলাকায় হাসপাতাল স্থাপন ও দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ১০০ ফুট সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নতুন প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জুলাই আন্দোলনে আহত ও নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত